আগের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা হয়নি লিভারপুলের। ইউরোপা লিগেও সুবিধা করতে পারেনি ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে থাকা অলরেডেরা। মৌসুমের শেষে ক্লপের জায়গা নিয়েছেন আর্নে স্লট। নতুন কোচের অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন সংস্করণের প্রথম দিনেই মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। প্রতিপক্ষ ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে যে ৬টি ম্যাচ হয়েছে, দুই দলের শক্তি বিচারে এটিকেই তো সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলে দেওয়া যায়।
কিন্তু হাইভোল্টেজ ম্যাচটাকে একপেশে বানিয়ে ৩-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। সেটাও আবার ইতালির ক্লাবটির ঘরের মাঠে গিয়ে। এমনকি ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল স্লটের শিষ্যরা। গোল হজম করেই যেন তেতে ওঠেন মোহাম্মদ সালাহ-কোদি খাকপোরা। আর তাতেই হার মানতে বাধ্য হয় পাওলো ফনসেকার শিষ্যরা।
লিভারপুলের হয়ে গোল তিনটি করেছেন ইব্রাহিমা কোনাতে, ভার্জিল ফন ডাইক ও দমিনিক সোবোসলাই। মিলানের জার্সিতে একমাত্র গোলটি ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের। এর বাইরে প্রথমার্ধে মোহাম্মদ সালাহর দারুণ দুটি প্রচেষ্টা ক্রস বারে লেগে ফেরত আসে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে বসেছিল লিভারপুর। এ হারের স্মৃতি সঙ্গী করে সান সিরোতে গিয়েছিল স্লটের দল। সেখানে গতকাল ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করতে বসেছিল অলরেডরা। তবে এ যাত্রায় লিভারপুলকে রক্ষা করেন ডিফেন্ডার ফন ডাইক। তবে পরের মিনিটেই গোল খেয়ে বসে লিভারপুল।
মধ্যমাঠ থেকে আলভারো মোরাতার বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েন পুলিসিক। সেখান থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে বল জড়ান যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড।
গোল খেয়ে আড়মোড়া ভাঙে লিভারপুলের। ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্লটের শিষ্যরা। ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সালাহর জোরাল শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে।
এর ৬ মিনিট পর ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। বক্সের বাঁ প্রান্তে কর্নার লাইনের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়েছিল অলরেডরা। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার আর্নল্ডের শটে হেড করে স্কোরলাইন ১-১ করেন কোনাতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে যে দুটি গোল করেছেন কোনাতে, সে দুটিও ছিল হেডে!
ম্যাচের ৩০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি ইংলিশ ক্লাবটির। কোদি খাকপোর শট রুখে দেন মিলান গোলকিপার। ফিরতি বল গিয়েছিল সালাহর সামনে। সেখান থেকে শট নিয়েছিলেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। কিন্তু সালাহর শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
অবশ্য এ যাত্রায় গোল না পেলেও লিভারপুলকে আটকে রাখতে পারেনি মিলান। ৪১ মিনিটে ফন ডাইকের হেডে এগিয়ে (২-১) যায় ইংলিশ ক্লাবটি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে খাকপোর জোরাল শট আরেকবার ঠেকিয়ে দেন মিলান গোলকিপার মাইক মাইনান। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিভারপুল।
বিরতির পর মাঠে নেমেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে লিভারপুল। তবে মিলান গোলকিপারের কল্যাণে দিয়োগো জোতার আরেকটা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৫১ মিনিটে চোট পেয়ে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়েন মিলান গোলকিপার মাইনান। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইতালিয়ান গোলকিপার লরেনসো তোরিয়ানি। ১৯ বছর বয়সী এ গোলকিপারও হজম করেছেন একটি গোল।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেছিলেন খাকপো। দারুণ এক ভলিতে স্কোরলাইন ৩-১ করেন হাঙ্গেরির অধিনায়ক সোবোসলাই। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর কোনো দল গোল পায়নি।



