গত সপ্তাহে এল ক্লাসিকোতে যে ঝড়ের মুখে পড়েছিল রেয়াল মাদ্রিদ, সে ঝড় থেকে রেহাই মিলল না চলতি সপ্তাহেও। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাব্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বালন দ’রেও মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পরাজিত হয়েছেন ম্যানচেষ্টার সিটির রদ্রির কাছে। সে সব হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সবচেয়ে বড় উপলক্ষ হতে পারত চ্যাম্পিয়নস লিগে এসি মিলানের বিপক্ষে জয়।
কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, দুঃসময়ের ফিরিস্তি আরও লম্বা হয়েছে মাদ্রিদের। ঘরের মাঠে ইতালিয়ান জায়ান্টদের কাছে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ৩-১ গোলে হেরেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। বের্নাব্যুতে পরপর দুই ম্যাচ হার, আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের চার ম্যাচে দুই হার- সব মিলিয়ে দুঃসময়ের বৃত্তেই বন্দী মাদ্রিদ। গতকাল ম্যাচ শেষে আনচেলত্তির কথাতেও উঠে আসল সেটি। মাদ্রিদ কোচ জানিয়েছেন, এটা চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল ম্যাচে বল পজেশন কিংবা আক্রমণ, দুই জায়গাতেই এগিয়ে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু কাজের কাজ গোলটা ঠিকঠাক করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসরা। মাদ্রিদের টানা আক্রমণ সামলে ম্যাচের ১২ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের কর্ণার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে মাদ্রিদ সমর্থকদের স্তব্ধ করেন জার্মান ডিফেন্ডার মালিক থিয়াও। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিলান।
পরের মিনিটে অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মাদ্রিদ। কিন্তু এমবাপ্পে সহজ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। এ যাত্রায় মিলানের ত্রাণকর্তা রূপে হাজির হন মাইক মাইনান। তবে ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইন ১-১ করেন ভিনিসিয়ুস।
এরপর দুদলের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বিরতির ৬ মিনিট আগে আবারও মাদ্রিদ সমর্থকদের স্তব্ধ করে মিলান। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে চুয়ামেনির ভুল পাস ধরে আক্রমণে ওঠে ইতালির ক্লাবটি। সে আক্রমণের শেষ ভাগে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন রাফায়েল লেয়াও। সেটি ঠেকিয়ে দেন মাদ্রিদ গোলকিপার আন্দ্রে লুনিন। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল সামনে পেয়ে সহজেই রেয়াল মাদ্রিদের জালে বল জড়ান আলভারো মোরাতা।
ম্যাচের ৫১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মিলান। এ যাত্রায় লেয়াওয়ের হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন লুনিন। এরপর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া মাদ্রিদ টানা আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু ম্যাচের ৮১ মিনিটে মাদ্রিদের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ৭৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রেইন্ডার্স।
নির্ধারিত সময়ের ৯ মিনিট আগে আন্তোনিও রুডিগার ব্যবধান কমালেও ভিএআরে সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। এতে ৩-১ গোলে হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মাদ্রিদকে। এ হারে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৭ নম্বরে নেমে গেছে মাদ্রিদ।
ম্যাচ শেষে মাদ্রিদের দুরাবস্থা নিয়ে কোচ আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এটা চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারছে না। আমাদের আরও সংঘবদ্ধ হয়ে খেলতে হবে। মাঠে আমাদের সুসংগঠিত দেখাচ্ছে না। এটা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’



