এটা কি অঘটন, নাকি রূপকথার কোনো মহাকাব্য? অঘটন বলার সুযোগটা অবশ্য কম। একবার-দুইবার হলে সেটাকে না হয় অঘটন বলা যায়। কিন্তু টানা চার ম্যাচ ধরে বোদো/গ্লিমট যা করছে, সেটাকে বরং রূপকথার মহাকাব্যই বলতে হয়। আর নরওয়েজিয়ান ক্লাবটির সে মহাকাব্য লেখার পথে এবার বধ হয়েছে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্তের মিলানো।
চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোতে ওঠার প্লে-অফের ফিরতি লেগে বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে ম্যাচটা জয়ের বিকল্প ছিল না ইন্তেরের। নক আউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ঘরের মাঠ স্তাদে ইউসেপ্পে মেয়াজোতে নরওয়ের ক্লাবটিকে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে হারাতে হতো ইন্তের মিলানের। তাতে ম্যাচ গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। আর সমীকরণের ধার না ধেরে শেষ ষোলোর টিকিট পেতে ইতালিয়ান ক্লাবটিতে জিততে হতো অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে।
কিন্তু জয় তো দূরের কথা। বোদো/গ্লিমটের কাছে আবারও নাস্তানাবুদ হয়েছে ইন্তের। প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হারের পর ঘরের মাঠে ফিরতি গেলে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে ইতালিয়ান জায়ান্টরা। তাতে দুই লেগে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বোদো/গ্লিমট।
নরওয়ের ক্লাবটির মহাকাব্যিক এ পথচলায় ইন্তের মিলানের আগে ধরাশায়ী হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে এ দুই ক্লাবকে হারিয়েছিল বোদো/গ্লিমট। এরপর নক আউটের দুই গেলে ইন্তেরের বিপক্ষে জয়, তাতে অনন্য এক কীর্তিতে নাম উঠেছে বোদো/গ্লিমটের।
১৯৭১-৭২ মৌসুমের পর এই প্রথম ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের বাইরে থাকা কোনো ক্লাব ইউরোপিয়ান কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগে শীর্ষ ৫ লিগের ক্লাবের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জিতল। ৫৪ বছর আগে ইউরোপিয়ান কাপে এই কীর্তি গড়েছিল আয়াক্স।
বোদো/গ্লিমটের অনন্য কীর্তি গড়ার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউটের বাকি তিন ম্যাচে তেমন অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটেনি। কারাবাগের বিপক্ষে প্রথম লেগে ৬-১ ব্যবধানে জেতা নিউক্যাসল ফিরতি লেগে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট পেয়েছে।
ঘরের মাঠে অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও আগের লেগে ২-০ ব্যবধানে জেতায় নকআউটে উঠেছে লেভারকুসেন। আর প্রথম লেগে ক্লাব ব্রুগার মাঠে ৩-৩ ব্যবধানে ড্র করা আতলেতিকো মাদ্রিদ ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে বেলজিয়ান ক্লাবটিকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার প্লে-অফের ফল:
নিউক্যাসল ৩-২ কারাবাগ (দুই লেগে ৯-৩ ব্যবধানে জিতেছে নিউক্যাসল)
ইন্তের মিলানো ১-২ বোদো/গ্লিমট (দুই লেগে ২-৫ ব্যবধানে জিতেছে বোদো/গ্লিমট)
আতলেতিকো মাদ্রিদ ৪-১ ক্লাব ব্রুগা (দুই লেগে ৭-৪ ব্যবধানে জিতেছে আতলেতিকো)
লেভারকুসেন ০-০ অলিম্পিয়াকোস (দুই লেগে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে লেভারকুসেন)



