বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, নিজেকে যেন আরও ভয়ংকর রূপে হাজির করছেন লিওনেল মেসি। আগের সপ্তাহে সিনসিনাটিকে ৫-৩ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। সেখানেই শেষ নয়, ওই ম্যাচে ইন্টার মায়ামির ৫টি গোলেই অবদান ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার।
সেই পারফরম্যান্স টেনে এনেছেন আজ সোমবার ভোরে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সের বিপক্ষে ম্যাচেও। নিজে একটি গোল করেছেন। সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্টে আরেকটি গোল করিয়েছেন মেসি। তাতে ইন্টার মায়ামি ম্যাচটা জিতেছে ২-০ ব্যবধানে।
একইসঙ্গে একটা ‘অভিশাপ’ থেকেও মুক্তি পেয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। গত মাসে নতুন ঘরের মাঠ ‘নু স্টেডিয়াম’ উদ্বোধনের পর থেকে এই স্টেডিয়ামে জয়হীন ছিল মায়ামি। এ মাঠে আজকের আগে খেলা ৪ ম্যাচের ৩টিতে ড্র ও অন্যটিতে হেরেছিল মায়ামি। অবশেষে মেসি ম্যাজিকেই নু স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের সুবাস পেল মায়ামি।
আজকের ম্যাচে মায়ামি প্রথম এগিয়ে যায় ৩১ মিনিটে। তেলেসকো সেগোভিয়ার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে দারুণ এক শটে গোল করেন মেসি। ক্যারিয়ারে এটি মেসির ৯১০তম গোল।
এই গোল করেই থেমে ছিলেন না মেসি। ১১ মিনিট পরে অনেকদিন চোখে লেগে থাকার মতো এক অ্যাসিস্ট করেন তিনি। রদ্রিগো দে পলের ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় পোর্টল্যান্ড বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন মেসি। মাঝে একবার সতীর্থ সুইস সুয়ারেসের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান করেছেন।
পোর্টল্যান্ডের চার ডিফেন্ডার মেসিকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। বক্সে ঢুকে বাঁদিকে কিছুটা ফাঁকায় থাকা বের্তেরামকে পাস দেন মেসি। সেই পাসে গোল করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি বের্তেরামের।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও একবার গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির দুর্দান্ত একটি ফ্রি কিক প্রায় জালে আশ্রয় নিচ্ছিল। তবে দারুণ দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন পোর্টল্যান্ড গোলকিপার জেমস প্যান্টেমিস। তাতে ২-০ ব্যবধানের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মায়ামিকে।
বিশ্বকাপের আগে মায়ামি আর একটা ম্যাচ খেলবে। আর আজকের জয়ে ১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়েই থাকল ফ্লোরিডার ক্লাবটি। আর এ বছর এমএলএসে খেলা ১৩ ম্যাচে ১২ গোলের পাশাপাশি ৬ অ্যাসিস্ট হয়ে গেল মেসির।



