আজ শুরু হচ্ছে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর— চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। ৩৬ দলের এই জমজমাট লড়াইয়ে এবার শুধু মাঠের ফুটবলেই রোমাঞ্চ থাকছে না, ভক্তদের নজর কাড়বে নতুন বেশ কয়েকটি নিয়ম। সময় নষ্ট ঠেকানো থেকে শুরু করে বদলি, চোট, ভিএআর ও হলুদ কার্ড— বেশ কয়েকটি নিয়মে এসেছে পরিবর্তন।
কিন্তু ঠিক কোন কোন নিয়ম বদলেছে? আর নতুন এসব নিয়মে ম্যাচেই বা কী প্রভাব পড়বে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো।
সময় নষ্ট করলেই শাস্তি
চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার সময় নষ্ট করার সুযোগ আরও কমে যাচ্ছে। ম্যাচের গতি ধরে রাখতে বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হবে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে নতুন খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রথমবার খেলা থামার পর অন্তত এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে তাকে।
থ্রো-ইনেও থাকবে কাউন্টডাউন
শুধু বদলির ক্ষেত্রেই নয়, দ্রুত খেলা শুরু করতে এবার থ্রো-ইন ও গোল-কিকের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি থাকছে। রেফারি চাইলে থ্রো-ইন বা গোলকিক নেওয়ার সময় ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দিতে পারবেন। থ্রো-ইন নিতে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে বল পাবে প্রতিপক্ষ। আর গোলকিক নিতে দেরি করলে প্রতিপক্ষকে দেওয়া হবে কর্নার কিক।
চোট পেয়ে ফিজিও ডাকলেই বাইরে এক মিনিট!
মাঠে চোট পাওয়ার নাটক তৈরি করে সময় নষ্ট করার সুযোগও আর থাকছে না। এখন থেকে মাঠে আঘাত পেয়ে চিকিৎসার জন্য ফিজিওর সাহায্য নিলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হবে। তবে গোলকিপারদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া, কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হন এবং সেই ফাউলের কারণে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হয়, তবে আঘাতপ্রাপ্ত খেলোয়াড়কে এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে না।
আরও বাড়ছে ভিএআরের ক্ষমতা
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের কাজের পরিধি আরও বাড়িয়েছে উয়েফা। অনেক সময় রেফারি অসাবধানতাবশত ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দিয়ে ফেলেন; এখন থেকে ভুল শনাক্ত করে কার্ড সঠিক খেলোয়াড়কে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিএআর সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। পাশাপাশি যদি কোনো খেলোয়াড়কে ভুলবশত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়া হয়, তবে ভিএআর বুথ থেকে রেফারিকে অন-ফিল্ড মনিটরে দৃশ্যটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া যাবে। এছাড়া কর্নার বা ফ্রি-কিকের ঠিক আগে আক্রমণকারী দলের ফাউল এবং গোলকিক থেকে তৈরি হওয়া হ্যান্ডবল সংশয় দূর করতেও কাজ করবে ভিএআর।
মুখ ঢেকে কথা বললেই লাল কার্ড নয়
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে প্রতিপক্ষের সাথে বাদানুবাদের সময় হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ফিফা ইতিমধ্যেই মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে অপমান করলে সরাসরি লাল কার্ডের নিয়ম চালু করেছে। তবে উয়েফা কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তারা সরাসরি লাল কার্ড না দিয়ে, অখেলোয়াড়সুলভ উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকলে হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ শেষে যদি উয়েফা কোনো বর্ণবাদী বা আপত্তিকর আচরণের প্রমাণ পায়, তবে ম্যাচের পরও বড় শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে।
হলুদ কার্ডের নতুন হিসাব
হলুদ কার্ড জমার নিয়মেও এসেছে পরিবর্তন। আগের নিয়মে তিনটি হলুদ কার্ড পেলেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে হতো। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে চারটি হলুদ কার্ড। এরপর ছয়, আট ও ১০টি হলুদ কার্ডে আসবে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা। ফলে খেলোয়াড়েরা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি ছাড় পাচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয়, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে যাবে। ফলে কোনো খেলোয়াড় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হলুদ কার্ড দেখলেও সেটি ফাইনালে বহাল থাকবে না। অর্থাৎ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সরাসরি লাল কার্ড না দেখলে শুধু হলুদ কার্ডের কারণে কোনো খেলোয়াড়কে ফাইনাল মিস করতে হবে না।
তাহলে বদলাচ্ছে কী?
চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল লিগ পর্বের কাঠামো অবশ্য আগের মতোই থাকছে। ৩৬টি দল খেলবে লিগ পর্বে। প্রত্যেক দলের আট ম্যাচ শেষে শীর্ষ আট দল সরাসরি যাবে শেষ ষোলোতে। নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে প্লে-অফ। তবে নতুন নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য একটাই— সময় নষ্ট কমানো, রেফারিংয়ের ভুল কমানো এবং ম্যাচের গতি আরও বাড়ানো। এখন দেখার বিষয়, মাঠে এসব নিয়ম কতটা কার্যকর হয় এবং খেলোয়াড়দের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়ে।



