ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে–আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার এই স্লোগানের সত্যিকার পরীক্ষা সোমবার। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রে, ইরানি দলের সফর নিয়ে জটিলতা আর যুদ্ধের অস্থিরতা। এ পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে ইরানের ফুটবলাররা।
ইতিহাসে প্রথমবার এমন বিশ্বকাপ দেখবে সবাই, যেখানে আয়োজক দেশ আর অংশগ্রহণকারী দেশ প্রতিদিনই একে অপরের সাথে গোলাবিনিময় করছে। নজিরবিহীন এ পরিস্থিতিতে ইরান দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রস্তুতি পর্ব, সবকিছুই অনিশ্চয়তায় ভরা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কম জল ঘোলা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্র্যাকটিস ভেন্যু মেক্সিকোতে নিতে বাধ্য হয়েছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম ম্যাচ শেষে দ্রুত ফিরতে হবে মেক্সিকোতে। পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্যও এই ক্লান্তিকর যাত্রা করতে হবে তাদের।
শুধু তাই নয়, ইরান ফুটবল বোর্ডের সভাপতি মেহেদি তাজসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনেক ইরানির বসবাস। কিন্তু, সেখানে ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে জোরালো জনমতের কারণে স্টেডিয়ামে উত্তেজনার শঙ্কা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ইরানের পতাকা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় স্থানীয়রা।
এদিকে সমকামীদের অধিকারের সমর্থনে ইরান ও মিশরের ম্যাচটিকে প্রাইড ম্যাচ ঘোষণা করেছে সিয়াটল কর্তৃপক্ষ। যা ইরান ও মিশরের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুদেশেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ভিসা জটিলতা, যাতায়াতের ধকল ও মাঠের বাইরের রাজনৈতিক চাপ ইরানের খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাই ইরান দলের শোচনীয় পরিস্থিতি ফিফার ঐক্যের বার্তাকে কতটুকু সমুন্নত রাখছে সেই প্রশ্ন ফুটবল ভক্তদের।



