শুরুতেই পাঠকদের একটা প্রশ্ন করে নিই। গত ৭ দিনের মধ্যে কি শারীরিকভাবে বাজারে গিয়েছেন? যদি গিয়ে থাকেন, তবে এই লেখা আপনারই জন্য। আর গিয়ে থাকলে এই লেখার শিরোনামের যৌক্তিকতাও আর কষ্ট করে নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করতে হবে না। আর যারা যাননি, তাঁরা দয়া করে এই লেখা পড়ার আগেই একটিবারের জন্য হলেও বাজার থেকে ঘুরে আসুন! আশা করি, আরও মারদাঙ্গা শিরোনাম আপনাদের মাথা থেকেই বের হবে!
এবার চলুন, লেখা বড় করার স্বার্থে এবং আপনাদের মনের ঘায়ে লবণ ছিটিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায় চলতি বাজারদর সম্পর্কে আবার একটু জেনে নেওয়া যাক। সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা সাধারণ মানুষের।
সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও জানা গেছে, জুলাই থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বাজারে তিন কেজি চালের দামে কিনতে হচ্ছে এক কেজি বেগুন। চড়া অন্যান্য সবজির দামও। বেশির ভাগ সবজিই কিনতে হচ্ছে গড়ে ১০০ টাকায়। রাজধানীর বাজারেও ভালোমানের বেগুনের কেজি ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। যেখানে এক কেজি মোটা চালের দাম ৫৫ টাকা। কাঁচামরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। সবজির বাজার লাগামহীন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। আর ডিমের ডজন তো প্রায় ডাবল সেঞ্চুরি করেই ফেলছে।
এই দুর্ভোগ যে কতটা, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আশা করি, নতুন করে এই তথ্যগুলোয় চোখ বুলিয়ে আপনাদের চোখ এখন জ্বালা করছে আবার। মনেও নিশ্চয়ই অনেক ক্ষোভ এসে দানা বাঁধছে। কিন্তু এত ক্ষোভ‑বিক্ষোভ নিয়েই বা কী করবেন? নাম না জানা এক মনীষী বলেছিলেন, মানুষ নিজেই নিজেকে সুখী বা অসুখী করার জন্য দায়ী। তাই চলুন মন ভালো রাখার বিকল্প উপায় খুঁজি। বুঝলেন না, বিকল্পই তো সব! ওই খুঁজতে গিয়েই কত কাণ্ড! আর কে না জানে, পাগলের সুখ মনে মনেই।
তাই এবার ভাবের পাগল সেজে ডিম‑সবজির বিকল্প ব্যবহারের বিষয়ে নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাই, চলুন। ধরুন, ডিম‑মরিচ বা নিদেনপক্ষে বেগুনেরও যে দাম, তাতে এগুলোকে রান্না করে খেয়ে ফেলা মনে হয় আর উচিত হবে না। যেহেতু এই লেখা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য, সুতরাং এই শ্রেণির মানুষদের এখন উচিত হবে, ডিম‑মরিচ‑বেগুন না খেয়ে, সেগুলোকে ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা। ড্রয়িংরুম না থাকলে বেডরুমেও রাখতে পারেন। রুমে রাখলেই হলো। দেখুন, ফুলদানিতে একটু কায়দা করে বেগুন, চিচিঙ্গা বা বরবটি কিন্তু সাজিয়ে রাখাই যায়। এতে করে এত দামী সবজিগুলোর উপযোগিতা বাড়বে। কিনে এনেই খেয়ে ফেললে তো সবই শেষ। টাকা উসুল হবে না। এর চেয়ে কেনার পর প্রথমে কিছুদিন সাজিয়ে রেখে ঘরের শোভা বাড়াতে পারেন। কোনো অতিথি বেড়াতে এলে সেও বুঝবে যে, আপনি কতটা শৌখিন!
এভাবে নিদেনপক্ষে ৩ দিন সাজিয়ে রাখার পর সবজিগুলো শুকিয়ে শুটকির পর্যায়ে চলে যাওয়ার ঠিক আগে আগে, সেগুলো রান্না করে খেয়ে ফেলুন। এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় যে সুবিধা, সেটি হলো–আপনার বেশি দামে কেনা সবজির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এতে করে ১০০/২০০ টাকা কেজিতে কেনা সবজিগুলোর উপযোগিতা বাড়বে। আর উপযোগিতা বৃদ্ধি মানেই আপনার ট্যাঁকের টাকার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া। এটুকু প্রচেষ্টায় আপনার অর্থব্যয় কমবে না ঠিকই। কিন্তু মনে একটু শান্তি ফিরলেও ফিরতে পারে। আর আজকালকার দিনে ওইটুকুই কম কী!
তবে মরিচ ও ডিমের বিষয়ে একটু আলাদা ট্রিটমেন্ট দিতেই হবে। ওরা অভিজাত বলে কথা!
মরিচের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে, এটি একটু বেশিদিন টিকতেও পারে। এর ঝাঁজও আছে, ঝালও আছে। তাই এর বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করার সময় ঘরের শোভা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে। শোভা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঘরে ঢোকার মুখেই ঝুলন্ত ডিংডং বেলের পরিবর্তে মরিচের ঝোলা ঝুলিয়ে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, একটি বা দুটি মরিচ যেন মাঝ বরাবর ফাঁড়া থাকে। এতে করে মরিচের ঝাঁজ কিছুটা হলে বাসায় আগতদের নাকে পৌঁছবে। নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, এতে করে আগতদের মনে আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে সমীহ জাগবেই!
ডিমের ব্যাপারে একটি টিপস দিয়ে রাখি। ডিম রাখবেন সোফাসেটের ঠিক পাশের টি‑টেবিলে। সেখানে একটা কাঁচের প্লেটে পিরামিডের মতো করে সাজিয়ে রাখুন ১২টি ডিম। দেখবেন, আপনার ঘরের সৌন্দর্য চলে যাবে অন্য লেভেলে।
শোপিস হিসেবে ডিম বা মরিচের ব্যবহার চাইলেই আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলা যায়। তবে তার জন্য নিজের মাথাটাও একটু খাটাতে হবে। সব তো আর ফ্রি’তে বলে দেওয়া যায় না!
যাক গে, নিজের মস্তিষ্ককে উন্নত করার দায় কিন্তু আপনারই। এ ব্যাপারে সচেতন হোন। ঘরের নতুন শোপিস আবিষ্কারের স্বার্থেও যদি সেটি কাজে লাগানোর যোগ্য হয়ে ওঠে, তবে ক্ষতি কী! মনে রাখবেন–মাথা যার, ব্যথাও তার।
সুতরাং, কাজে লেগে পড়ুন। নতুন নতুন আইডিয়া শেয়ার করুন ফেসবুকে এই নিউজপোস্টের কমেন্ট বক্সে। আশা করা যায়, আপনাদের সময় খুব একটা খারাপ কাটবে না। কথায় তো আছেই–নাই কাজ তো খই ভাজ!


জার জার ওবস্তান থেকে…চালাই দ্যান!
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হাহা ভাইরাস, ফেসবুকের উদ্বেগ!
শুধু কি মুরুব্বীদেরই উঁহু করা যাবে?
