ফেব্রুয়ারি আর বইমেলা অনেকটা সমার্থক হয়ে গেছে। মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনি তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে বসে। লেখক–পাঠকের এ মিলনমেলায় অনেকে ভুলেই যায় যে, এই হাজার হাজার বইয়ের উৎপাদনের সাথে কতজনের কত ধরনের শ্রম জড়িত। একটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে এর মলাটবদ্ধ হওয়া পর্যন্ত নানা ধাপে অসংখ্য মানুষ যুক্ত থাকে। প্রতিটি স্তরই প্রকাশনার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই প্রতিটি স্তরেই রয়েছে নারীর সম্পৃক্তি। যারা শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই নয়, বছরের ১২ মাস পাঠকদের কাছে বই পৌঁছে দেন।
প্রকাশনা জগতের ব্যপ্তি অনেক; ধকলও অনেক। এমন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীদের দায়িত্ব পালন অনেক চ্যালেঞ্জিংও বটে। কোনো নারী যদি প্রকাশনাকে একমাত্র পেশা হিসেবে বেছে নেন, তাহলে তাঁকে অনেক বেশি সাহসিকতার পরিচয় দিতে হয়। তবে ইতিবাচক ব্যাপার হলো বর্তমানে নারীরা প্রকাশনা জগতের বিভিন্ন ধাপে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বইয়ের অলংকরণ বা প্রচ্ছদ আঁকছেন, কেউ–বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি ঠিক করে দিচ্ছেন, আবার অনেকে বই বা পাণ্ডুলিপি ছাপানোর আগে বানান, বাক্য বিন্যাসের ভুল আছে কি–না, তা সংশোধন করে দিচ্ছেন। সবশেষে একজন প্রকাশক পাঠকদের কাছে বইটি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন, যার সাথে যুক্ত বিপণন, প্রচারের মতো জটিল বিষয়াদি। প্রকাশনা জগতের চার নারীর সঙ্গে আলাপে উঠে এল তাঁদের নিজস্ব জগতে টিকে থাকার কিছু কথা—

বই প্রকাশে সঠিক নীতিমালা মানা হচ্ছে না: নাহিদা আশরাফী
নাহিদা আশরাফী ২০১৬ সাল থেকে ‘জলধি’ নামে লিটল ম্যাগাজিনের কাজ শুরু করেন। তিনি ২২ থেকে ২৩ বছর সম্পাদনার কাজে যুক্ত আছেন। এখন জলধি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত জলধি ১৫০–এর বেশি বই প্রকাশ করেছে। মূলত সৃজনশীল বইয়ের কাজ করে এই প্রকাশনা সংস্থা। এবারের বইমেলায় ৭৫ নম্বর স্টলে আছে ‘জলধি’।
বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় কেটেছে নাহিদার শৈশব ও কৈশোর। শৈশবে মঠবাড়িয়ায় থাকতেই তাঁর কবিতায় হাতেখড়ি। এরপর বিভিন্ন জেলার ৭ থেকে ৮টি স্কুলে পড়ালেখা করেন তিনি। পরে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন।
ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি ছিল অনেক বেশি আগ্রহ। বইয়ের সঙ্গে কাজ করার সুপ্ত বাসনা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রকাশক হয়েছেন নাহিদা। বর্তমানে প্রকাশক হিসেবে পুরো জার্নিটা উপভোগ করছেন। কেন প্রকাশক হলেন জানতে চাইলে নাহিদা বলেন, ‘প্রতি বছর বইমেলাকে কেন্দ্র করে কিছু মৌসুমী প্রকাশক তৈরি হয়। যাদের কাছ থেকে লেখকেরা অনেক বেশি মাত্রায় অবহেলিত ও দুরবস্থার শিকার হন। এই চিন্তা ভাবনা থেকে জলধি প্রকাশনা সংস্থার সৃষ্টি। এ ছাড়া জীবনের একটা পর্যায়ে এসে বুঝলাম, মানুষ নিজের প্যাশন আর পেশা এক করতে পারে না। ফলে চলার পথও পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন: বাংলায় পড়ে অনেককে চাকরি করতে হচ্ছে ব্যাংকে। আমি যে বিভাগে পড়ালেখা করি, সেই বিভাগ অনুযায়ী পেশা নির্ধারণ করতে পারছি না। এই জায়গায় আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কী চাই? আমি বই ভালোবাসি। এই জায়গা থেকে মনে হলো যেহেতু আমি একজন লেখক ও সম্পাদক, সেহেতু প্রকাশনার জায়গাটা পেশা হিসেবেও নিশ্চিত করতে পারি। এসব চিন্তা থেকেই প্রকাশক হওয়া।’
এই চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন নাহিদা। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার জানাতে নাহিদা বলেন, ‘প্রকাশনার কাজ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটি একটি টিমওর্য়াক। যে টিমে একজন বাইন্ডার থেকে শুরু করে প্রুফ রিডার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, প্রচ্ছদশিল্পীসহ অনেক মানুষকে সমন্বয় করতে হয়। আমাদের আশপাশের অধিকাংশ মানুষ নারীদের প্রভাব বা নারীদের অধীনে কাজ করার বিষয়টা সহজভাবে নিতে পারেন না। তাই বলতে পারি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নারীদের নিজের আত্মবোধ শক্তভাবে ধারণ করা উচিত।’
বইমেলায় অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। কিন্তু পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। মাসজুড়ে বইমেলায় বই কম বিক্রি হয়। এ বিষয়ে নাহিদার ভাষ্য, ‘একজন প্রকাশক বা সম্পাদক থেকে শুরু করে বাংলা একাডেমি, পুস্তক প্রকাশনা সমিতি—যারা এ কাজে জড়িত, তাঁরা প্রত্যেকেই বই কম বিক্রি হওয়ার পেছনে দায়ী। কারণ, বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা মানা হচ্ছে না। একজন লেখক টাকা দিলেই বই প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। তার বই আদৌ প্রকাশের যোগ্য কিনা, তা ভেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ, সেই প্রকাশকের নেই কোন সম্পাদনা পরিষদ। আমার হাতে টাকা আছে, তাই বই প্রকাশ করছি। এতে মানসম্মত বই প্রকাশ হচ্ছে না। মানসম্মত বই না হলে পাঠক বিভ্রান্ত হবেন। আর পাঠক বিভ্রান্ত হয়ে যেটা করছে, সেটা হলো নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে তারা যেতে পারছেন না।’
নাহিদা দেশ ও দেশের বাইরের অনেক জায়গায় সম্মানিত ও পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর ঝুড়িতে অনেক পুরস্কার জমা আছে। যেমন: বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা (আগরতলা), যুগসাগ্নিক বর্ষসেরা সম্পাদক (কলকাতা ২০১৯), রূপনারায়ণপুর পিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সম্মাননা (আসানসোল ২০২০), পোয়েট্রি ফর পিস সম্মাননা (চেন্নাই ২০২০), বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার (২০২১), অদম্য নারী সম্মাননা (২০২১), বিনয় মজুমদার সম্মানে প্রবর্তিত চাকা সাহিত্য সম্মাননা (পশ্চিমবঙ্গ, ২০২২)।
প্রকাশনার জগতে নাহিদা ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে চান না। তিনি অনেক লাভবানও হতে চান না। জলধি একটি লিটল ম্যাগাজিন। ছোট কাগজের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেই তিনি প্রকাশনা সংস্থার বৈশিষ্ট্যকে বজায় রাখতে চান। নাহিদা বলেন, ‘আমি সাহিত্য সাধনা করতে এসেছি। সে জায়গা থেকে চাই সত্যিকারের সাহিত্য বের হয়ে আসুক।’

পেশাদারত্ব নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবেই: কানিজ ফাতিমা
২০১৬ সাল থেকে প্রকাশনার কাজে জড়িত কানিজ ফাতিমা কান্তা। তিনি ‘দ্যু প্রকাশন’ সংস্থার ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ছোটবেলায় কান্তা নানিকে বই পড়তে দেখতেন। আবার মামা-খালাদের দেখতেন সুযোগ পেলেই বই পড়তে। মূলত তাঁদের সংস্পর্শে কান্তার মনের একটা কুঠুরিতে বই পড়ার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়। আর সেই ভালো লাগা থেকেই প্রকাশনা জগতে আসা। বই নিয়ে কাজ করতে এক ধরনের সৃষ্টির আনন্দ পান কান্তা। কান্তা বলেন, ‘একটি বই যেন, এক একটি শিল্পকর্ম। আর শিল্প হলো সন্তানের মতো। তাই সীমাহীন আগ্রহ আর আনন্দ নিয়ে কাজ করি।’
কান্তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞানে এসএসসি ও এইচএসসি, এরপর ইডেন মহিলা কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর করেন। পরে পেশার প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগ থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর করেন। পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু বইয়ের প্রতি দুর্বলতা আর ভালোবাসা তাঁকে টেনে আনে প্রকাশনা জগতে। ভালোবাসার জায়গাটিকেই বেছে নেন পেশা হিসেবে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রকাশনাকে পেশা হিসেবে নেওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং। নারীদের জন্য এই চ্যালেঞ্জ বহুগুণে বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন প্রকাশনার কাজে যুক্ত থেকে নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে কান্তা বলেন, ‘এটা ঠিক যে আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থান এখনো সুসংহত নয়। তবে প্রকাশনায় এমন সব প্রতিবন্ধকতা আছে, যা নারীর একার সংকট নয়। এটা থেকে উত্তরণের জন্য সামগ্রিক প্রচেষ্টা জরুরি।’
প্রকাশনার জগতে কাজ করতে গিয়ে কান্তা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা থেকে নিয়মিত কিছু না কিছু শিখছেন বলে জানালেন। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘এই পথচলা মোটেও সহজ নয়। কারণ, আমাদের দেশে প্রকাশনা হলো অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ খাত। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পেশাদারত্ব নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবেই। কান্তার নিজেকে প্রকাশনা জগতে আরও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশের প্রকাশনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়া।’

কণ্টকাকীর্ণ পথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন সুদিন আসবে: লাবণী মণ্ডল
২০১০ সাল থেকে প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লাবণী মণ্ডল। বর্তমানে তিনি কথাপ্রকাশ প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদনা পরিষদের কাজ করছেন। এ ছাড়া সাহিত্য, বইয়ের আলোচনা–সমালোচনা এবং প্রবন্ধ লেখেন নিয়মিত।
লাবণীর জন্ম টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক পরিবারে। সবুজের মাঝে শৈশবের দিন কেটেছে। প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষের গল্প বলতে ভালোবাসেন। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকে বই নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাননি। কারণ স্বপ্ন দেখার মতো সামাজিক-পারিবারিক পরিবেশ তখন ছিল না।
লাবণী বর্তমানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে (স্নাতক) পড়ছেন। প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বাবার কাছ থেকে। বাবার প্রসঙ্গে লাবণী বলেন, ‘আব্বা আমার বইগুলো যত্ন করে গুছিয়ে রাখতেন। পুরানা পল্টন, নীলক্ষেত থেকে পুরোনো বই ঘেঁটেঘেঁটে কিনে আনতাম। আব্বা তা মুছে, গুছিয়ে বুকশেলফে রাখতেন। প্রথম তো আমার একটি বুকশেলফই ছিল না। ফ্লোরে সাজিয়ে রাখতাম। কী যে আনন্দ হতো! এখন অনেক বই, বুকশেলফ আছে; কিন্তু সেই মানুষটি নেই। এখনকার পরিস্থিতি দেখলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন আব্বা।’
অনেক বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে এ পথে হাঁটছেন লাবণী। কারণ, এখনো এই সমাজ নারী প্রশ্নে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে। ফলে চাকরিক্ষেত্রে একজন নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। লাবণী বলেন, ‘এসব প্রতিকূল পরিবেশকে মোকাবিলা করেই একজন নারীকে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। যতদিন না সামগ্রিকভাবে নারীরা মুক্তি পাচ্ছেন, ততদিন এ লড়াই থাকবে। আমাদের আরও বহু পথ হাঁটতে হবে। কণ্টকাকীর্ণ পথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন সুদিন আসবে।’
প্রকাশনা সংস্থায় যুক্ত থাকাটাকে আনন্দের মনে করেন লাবণী। তিনি প্রকাশনার কাজে মানসিক শান্তি পান। নতুন বই যখন স্পর্শ করেন, তখন তাঁর মনের গহীনে হিম বাতাস বয়ে যায়। লাবণী স্বপ্ন দেখেন, প্রকাশনা সংস্থায় নিজের শক্ত একটা অবস্থান তৈরির। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেকটা পরিষ্কার—একটি প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তুলতে চান তিনি। লাবণী বলেন, ‘একদিন প্রকাশনা জগতের সুদিন আসবে। কারণ, মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে, জ্ঞানের দ্বারে যেতেই হবে। আর সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। আগামী পাঁচ বছরে এ সেক্টরে আমূল পরিবর্তন আসবে।’

অনেকেই প্রচ্ছদ শিল্পীদের সম্মানী সময়মতো দেন না: আমিনা আলম আন্নি
আন্নি একজন বইয়ের প্রচ্ছদ বা অলংকরণ শিল্পী। এবারের বইমেলায় ৪০টিরও বেশি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন আন্নি। এখনো অনেক বইয়ের প্রচ্ছদের কাজ করছেন।
২০২০ সালে করোনাকালে বইয়ের প্রচ্ছদ করা শুরু করেন। সে বছর ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে ‘শৈশবের ছাপ’ নামে তাঁর একটি কাজ প্রদর্শিত হয়। সেই কাজ থেকেই বইয়ের প্রচ্ছদ করা শুরু।
বাবার কাজের সূত্রে আন্নির শৈশব কেটেছে মূলত ওমানে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকাকালে বাংলাদেশে আসেন। চট্টগ্রাম শহরেই কেটেছে তাঁর শিক্ষাজীবন। আল-জাবের স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ব্যবসা শিক্ষায় এইচএসসি ও পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন।
বইয়ের আঁকাআঁকি করতে ভালোবাসেন আন্নি। তাঁর কাছে কাজটি বেশ আনন্দের মনে হয়। প্রচ্ছদ নাকি পুরো বইয়ের অলংকরণ—এই দুইয়ের মধ্যে পুরো বইয়ের অলংকরণকে চ্যালেঞ্জিং মনে করেন আন্নি। কারণ, এতে কাজ করতে হয় বেশি। বইয়ের প্রচ্ছদ করতে ভালোবাসলেও এর মূল্যায়ন নিয়ে কষ্টবোধ আছে আন্নির। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রচ্ছদ শিল্পীদের সম্মানী সময়মতো দেন না। আবার অনেকে সম্মানী দিতে কিপটেমিও করেন।’
স্বপ্ন কম দেখেন আন্নি। স্বপ্ন দেখে হতাশা হয়ে ঘুরতে চান না। তবে ভালো প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে ভালো কাজ করে যেতে চান।



