ইভটিজিং নারীদের জন্য নতুন কোনো শব্দ না। চলতি পথে নারীরা প্রতিনিয়ত ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছেন। ইভটিজিং এর কিছু ঘটনা হয়ত প্রকাশ্যে আসছে। কিন্তু এমন অনেক ঘটনা আছে যা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণ এক প্রকার যৌন হয়রানির আরেকটি রূপ। কোনো নারীকে অশালীন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, কোনো কিছু ছুঁড়ে দেওয়া, রাস্তাঘাটে হাঁটতে বাধা দেওয়া, পথ রোধ করে দাঁড়ানো, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা, অশ্লীলভাবে প্রেম নিবেদন, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান ইত্যাদিকে ইভটিজিং হিসেবে গণ্য করা হয়। রাস্তাঘাটে ইভটিজিং এর কারণে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
ইভটিজিং বা উত্ত্যক্তকরণের ঘটনার ভুক্তভোগী হিসেবে আছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ। ক্ষেত্র বিশেষে ইভটিজিং শিকার অনেক নারী অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার দিকেও ঝুঁকে পড়েন। এতে আড়ালে চলে যায় প্রকৃত ঘটনা।
ইভটিজিং ক্ষেত্রে আইনে কী ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে তা অনেক নারী জানেন না। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে ইভটিজিং এর শাস্তির বিধান আছে। যেমন:
১. দণ্ডবিধি আইনের ৩৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা শালীনতা নষ্ট হতে পারে জেনেও তাকে আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেন, তাহলে সে ব্যক্তি ২ বৎসর পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে বা জরিমানাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
২. দণ্ডবিধির আইনের ২৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যদের বিরক্তি সৃষ্টি করেন, কোনো প্রকাশ্য স্থানে অশ্লীল কাজ, গান বা উচ্চস্বরে কিছু বলেন, সেই ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
৩. দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায়ও এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এ ধারায় বলা আছে, যদি কেউ কোনো নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে কথা, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজ করে, তাহলে দায়ী ব্যক্তি এক বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সাজা বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবেন।
৪. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান থেকে দৃষ্টিগোচরে স্বেচ্ছায় এবং অশালীনভাবে নিজ শরীর এমনভাবে প্রদর্শন করে, যা কোনো গৃহ বা দালানের ভেতর থেকে কোনো নারী দেখতে পান, অথবা স্বেচ্ছায় কোনো রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহারের স্থানে কোনো নারীকে পীড়ন করে বা তাঁর পথ রোধ করে বা অশালীন ভাষা, অশ্লীল আওয়াজ, অঙ্গভঙ্গি বা মন্তব্য করেন, কোনো নারীকে অপমান বা বিরক্ত করেন, তবে সেই ব্যক্তি ১ বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৫. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৫ ধারা অনুযায়ী, সমাজে অশালীন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের শাস্তি হিসেবে তিন মাস মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
সমাজ থেকে ইভটিজিং আপনা–আপনি দূর হবে না। প্রয়োজন নারীদের চলাফেলার নিরাপদ পরিবেশ। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে এই ধরনের ঘটনা মুখ বুজে সহ্য না করে, প্রতিবাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরিবার , রাষ্ট্র, সমাজ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ইভটিজিংয়ের শিকার ভুক্তভোগী নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারেন। যদি উত্ত্যক্তকারী পরিচিত কেউ হন, তাহলে তার নাম আর ঠিকানা দিতে হবে। আর যদি অপরিচিত হন, তাহলে যদি তাঁর চেহারার বর্ণনা এবং ঘটনা ও ঘটনাস্থল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে হবে।


নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য আইন কী বলে
ধর্ষণের শাস্তির বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যা বলে
দুই স্ত্রীর একজন তালাকপ্রাপ্ত, মৃত স্বামীর সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে?
