আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ঘোষণা শুরু হবে এ বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম। চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি ও শান্তি– এই ছয়টি শাখায় প্রদান করা হবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।
নোবেল পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয় সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের হাত ধরে। ডিনামাইট আবিষ্কার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর অর্জিত সম্পদ মানবকল্যাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতির জন্য ব্যয় হবে। সেই অনুযায়ী ১৯০১ সালে প্রথমবার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রথমে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি শাখায় পুরস্কার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার যুক্ত করা হয়।
আলফ্রেড নোবেল নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন বিভিন্ন শাখার পুরস্কার কে প্রদান করবে। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের পুরস্কার প্রদান করে রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস, সাহিত্য পুরস্কার দেয় সুইডিশ একাডেমি, চিকিৎসা বা শারীরবিজ্ঞান শাখার পুরস্কার প্রদান করে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, আর শান্তি পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। নোবেল কেন শান্তি পুরস্কারের জন্য নরওয়েকে বেছে নিয়েছেন তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করে। এটি রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং মূল নোবেল পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এবারের নোবেল ঘোষণা শুরু হবে আগামী সোমবার, স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাশাস্ত্রে পুরস্কার দিয়ে। মঙ্গলবার ঘোষণা হবে পদার্থবিদ্যা, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর। এদিন আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। বিজয়ীরা পাবেন ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্য), সঙ্গে থাকবে ১৮ ক্যারেটের সোনার পদক ও একটি সম্মাননাপত্র।
শান্তিতে নোবেলকে ঘিরে এবারও রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এবং বিদেশি রাজনীতিকেরা মনোনয়ন দিয়েছেন। ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তিতে ভূমিকার জন্য এবার এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য তাকে মনোনীত করেন। মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানও।



