হান্টাভাইরাসের কবলে পড়া প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করে।
আজ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, উদ্ধার যাত্রীদের মধ্যে অন্তত সাতজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার পথে জাহাজটিতে বিরল এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য আতঙ্ক তৈরি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জীবিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও একজনকে ‘সম্ভাব্য আক্রান্ত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এক নারীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে এটি ‘কোভিড-১৯’-এর মতো মহামারি নয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি বেশ কম।
ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটি আগামী রোববার সন্ধ্যায় রটারডাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর পুরো জাহাজটিতে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হবে।
এএফপি জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজটিতে ২৫ জনের বেশি ক্রু ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া যাত্রাপথে প্রাণ হারানো এক জার্মান নাগরিকের মরদেহও জাহাজে রয়েছে। তবে সব যাত্রী ইতোমধ্যেই জাহাজ ত্যাগ করেছেন।



