ভয়াবহ এল নিনো আসছে: সম্ভাবনা কতটা, কী প্রভাব পড়বে

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ট্রপিক্যাল প্রশান্ত মহাসাগরে গড়ে উঠতে থাকা এল নিনো এবার ইতিহাসেরই অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে। নতুন পূর্বাভাস দেখে বিশ্লেষকরা দিনে দিনে এ ব্যাপারে আরও বেশি নিশ্চিত হয়ে উঠছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে এবং মানুষের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশ দ্রুত গরম হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের তথ্য দেখাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এটি এল নিনো শুরু হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। প্রশান্ত মহাসাগরের গরম হওয়ার প্রাকৃতিক ঘটনাটাকেই এল নিনো বলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হবে এবং শরৎকালে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। যাকে তাঁরা বলছেন ‘সুপার এল নিনো।’

এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন। কারণ এটি বিশ্বব্যাপীই আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। এর মধ্যে একটি সম্ভাবনা হলো, ২০২৭ সাল রেকর্ড গরমের বছর হতে পারে।

জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডল সংস্থা (এনওএএ) বলেছে, এল নিনো এই মাসের মধ্যেই শুরু হতে পারে। তাঁরা জানিয়েছেন, শীতকালে এল নিনো শক্তিশালী বা খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা দুই-তৃতীয়াংশ।

গত কয়েক সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়েছে। এনওএএ–র আবহাওয়াবিদ নাথানিয়াল জনসন এটিকে ‘বিরল ঘটনা’ বলেছেন। তিনি বলছেন, শীতকালে দেখা লা নিনিয়া থেকে এক বছরের মধ্যেই শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তর (বিওএম) আরও কিছুটা কঠোর মানদণ্ড ব্যবহার করে এল নিনোর পূর্বাভাস দেয়। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই কেবল সেটিকে এল নিনো বলা যাবে। তারা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ট্রেন্ড উইন্ডের (ট্রপিক অঞ্চলের পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে চলমান নিয়মিত বাতাস) বিপরীতগতি খোঁজে। এটি দেখায়, উত্তপ্ত মহাসাগর বাতাসকে প্রভাবিত করা শুরু করেছে।

সাধারণত বসন্তকালের পূর্বাভাসগুলো এল নিনোর জন্য বেশি সঠিক হয় না। তবে এই বছর বিশ্লেষকরা এ পূর্বাভাসের ব্যাপারে আগের চেয়েও বেশি নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।

শক্তিশালী এল নিনো কী?

এল নিনো ট্রপিক্যাল প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হয়। পূর্বাভাসকারীরা নিনিও ৩.৪ নামে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল মনিটর করেন। এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তিন মাসের গড় তাপমাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদী গড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’ হয়, যখন তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পায়।

ইউরোপীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (ইসিএমডাব্লিউএফ), এনওএএ এবং বিওএম-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস প্রায় একই ফলাফল দেখাচ্ছে। ইসিএমডাব্লিউএফ -এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে দেখা গেছে, তাদের অর্ধেকের বেশি মডেল শরৎকালে তাপমাত্রা ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে।

জনসন বলেছেন, এর বেশি বাড়লে এটি ‘ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ঘটনা’ হবে। বিওএম-এর পূর্বাভাসও বলছে, এ বছরের শেষে খুব শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে। কিছু পূর্বাভাসে দেখা গেছে, তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি ১৮৭৭ সালে রেকর্ড ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ছাড়িয়ে যাবে।

১৮৭৭ সালের সেই এল নিনো ১৮ মাস ধরে চলেছিল, যার কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। এশিয়া, ব্রাজিল ও আফ্রিকায় তীব্র খরা ও দূর্ভিক্ষের কারণে কয়েক লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। অন্যদিকে পেরুতে তীব্র বন্যা হয়েছিল।

সর্বশেষ ‘খুব শক্তিশালী’ এল নিনো হয়েছিল ২০১৫-২০১৬ সালে। তখন নিনিও ৩.৪ অঞ্চলের তিন মাসের গড় তাপমাত্রা বেড়েছিল ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কী হতে পারে?

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের অতিরিক্ত উত্তাপের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো, এতে বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এই বৃদ্ধির হার সাধারণত ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক লিজ স্টিফেন্স বললেন, ‘যদি এবারেরটা খুব শক্তিশালী এল নিনো হয়, তাহলে আমরা সম্ভবত আগামী বছরে রেকর্ড গরমের মুখোমুখি হব।’

২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর পরে আমরা সর্বকালের সবচেয়ে গরম বছর দেখেছি।

যদিও এল নিনোর প্রভাবটা প্রশান্ত মহাসাগর এবং এর আশপাশের অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপরই সবচেয়ে সরাসরি নজরে আসে, তবে প্রতিটি এল নিনো অনন্য। অর্থাৎ, এটা কতটা শক্তিশালী হবে, বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর এর প্রভাব কত ব্যাপক হবে – সে হিসাব প্রতিটি এল নিনোর ক্ষেত্রেই আলাদা।

উত্তর পেরু এবং দক্ষিণ ইকুয়াডরে বন্যা সাধারণ ঘটনা, কিন্তু পূর্ব আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দক্ষিণের কিছু অঞ্চলেও এল নিনোর প্রভাব পড়তে পারে।

এটি আটলান্টিকের ট্রপিক্যাল অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের পরিমাণও কমিয়ে দেবে। পূর্বাভাসে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বছর আটলান্টিকে হারিকেনের মৌসুমও অন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে শান্ত হতে পারে।

‘এটা (হারিকেন ঝড়ের পরিমাণ কমে যাওয়া) শুনতে ভালো মনে হতে পারে, তবে মধ্য আমেরিকার অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে এল নিনোর কারণে বৃষ্টি কম হতে পারে, যা খরার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে’ - বলেছেন অধ্যাপিকা স্টিফেন্স।

অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গায়ও খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। সেটা হলে কৃষি এবং বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি হবে

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে, দাম বেড়েছে। এ কারণে সামনের দিনগুলোতে ফসলের ফলন কমবে, খাদ্য সরবরাহ কমবে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে।

স্টিফেন্স বলেন, ‘এরই মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর ওপর যদি খরা বা বন্যার কারণে ফসল কম হয়, দাম আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে এ বছর মানুষের জীবনযাপনে বড় আকারের প্রভাব দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সমাধান না আসে।’

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস বলছে, এল নিনোর প্রভাব সরাসরি যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার ওপর কম পড়বে বলে মনে হলেও এল নিনোর বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে শীতকালে ঠাণ্ডা বেশি পড়তে দেখা গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চার দশকে হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলোর চার ভাগের এক ভাগই গলে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে এসব হিমবাহ গলিয়ে দিচ্ছে। অপরিকল্পিত নির্মাণ, সুড়ঙ্গ...
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) বিরুদ্ধে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জরুরি সেবা বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই অভিযোগ তুলেছেন। 
দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। এছাড়া দাবানলের আকার দ্রুত দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় প্রদেশটির দক্ষিণের...
গ্রিসে দাবানল মোকাবিলার সময় মাঝ-আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন ডেনিশ পাইলট এবং বাকিজন গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা। রয়টার্সস জানিয়েছে এ খবর।
দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। 
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দেশকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নির্বাচনে দেওয়া বিএনপির সব অঙ্গীকার সরকার...
আজ সন্ধ্যায় বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দেয়। রাজু তা নিজে মেরামত করতে গেলে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে বাঁচাতে মা লাকী আক্তার ছুটে গেলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। চোখের সামনে...
মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। কক্ষের চাবিও ছিল মসজিদ কমিটির সদস্যদের কাছে। এর মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যার আগে হঠাৎ ওই কক্ষের ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তেই উড়ে যায় টিনের বেড়ার...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর