ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আট দিন পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার অবস্থান শনাক্তের পর ৭০ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। খবর রয়টার্সের।
একেই বোধহয় বলে অলৌকিক ঘটনা। শক্তিশালী জোরা ভূমিকম্পের আট দিন পর লণ্ডভণ্ড ভবনের ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে উদ্ধার হলেন এক নিরাপত্তাকর্মী।
মঙ্গলবার ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪৩ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী হার্নান গিলের সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। এরপর থেকে তাকে উদ্ধারে দিনরাত এক করে কাজ করছেন শত শত উদ্ধারকর্মী। এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল একসঙ্গে কাজ করেছে।
গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের তৈরি করা সুড়ঙ্গের কিছু অংশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল। জটিল এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া দলগুলোর সদস্যরা অবশেষে বুধবার রাতে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।
জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় ভেনেজুয়েলার লা গুয়েরা অঞ্চলের একটি শপিং মলের পার্কিং লটে দায়িত্বরত ছিলেন হার্নান গিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছোট বুথটি তার চারপাশে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করেছিল। এর ফলেই ধসে পড়া ১৪০ টন ওজনের ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে বেঁচে ছিলেন গিল।
চিকিৎসক লুই রদ্রিগেজ বলেন, ‘এটা সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা। সেইসাথে উদ্ধারকর্মীরা যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কারণ কঠিন সময়ে মনোবল ধরে রাখতে উৎসাহিত করা খুব জরুরি। সেইসাথে গিলকে খাবার ও পানি সরবরাহ করে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকেও তারা বাঁচিয়ে রেখেছেন।’
চিলির ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ৮ দিন পর উদ্ধার হলেও ফ্লোরেসের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো আছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির এক স্বজন বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরের দিনগুলো ছিল দুঃখ, যন্ত্রণা আর হতাশায় ভরা। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমি জানতাম না সে বেঁচে আছে না মারা গেছে। তারপর আমি জানতে পারলাম সে বেঁচে আছে। অবশেষে তার বেঁচে থাকার একটি ক্ষীণ আশা দেখতে পেলাম। সে একজন যোদ্ধার মতো সবকিছু সহ্য করেছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে ভূমিকম্পের সাত দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা নিঃসন্দেহে একটি অলৌকিক ঘটনা। সাধারণত ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিনকে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বা আদর্শ সময় ধরা হয়। তিন দিন পার হয়ে গেলে শরীরে পানি না থাকায় মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত ফুরিয়ে আসে।



