ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধ্বসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪২ জনে। রোববার দিনের শুরুতে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বেলা গড়াতেই সংখ্যাটা ৪০০ ছাপিয়ে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের তরফে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে প্রধান প্রধান সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কাজটি বেশ দুরুহ হয়ে পড়েছে। যদিও ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ পরিষেবা আংশিক পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘূর্ণিঝড় 'সেনিয়ার' নামক একটি ব্যতিক্রমী বিরল ক্রান্তীয় ঝড়ের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় এই ভূমিধস ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভবন পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।
এ ধরণের ঘূর্ণিঝড়ে তীব্র হাওয়ার সাথে ভারী বর্ষণ দেখা যায়। ফলে এ ধরণের পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা যেতে পারে যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে বন্যার পানির স্তর দ্রুততার সাথে বাড়তে থাকে। আর এ কারণেই ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট বন্যা মোকাবেলা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে।
এমনটিই হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রেও। দেশটির আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা আরিনি আমালিয়া বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিবিসিকে বলেন, ‘স্রোত খুব দ্রুত ছিল, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি রাস্তায় পৌঁছে বাড়িতে ঢুকে পড়ে।’
উল্লেখ্য, শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই ভয়ানক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ক্রান্তীয় ঝড় বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট তীব্র হওয়া ও ভারী মৌসুমী বৃষ্টির প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে এই অঞ্চলের দেশগুলো।
মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ আছেন আরও অনেকেই। সার্বিকভাবে বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ।
থাইল্যান্ড সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই শহরে ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশটিতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির উত্তরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে সরকার। এর আগে, গেল সপ্তাহে ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯১ জন।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়াতেও হানা দিয়েছে ক্রান্তীয় ঝড়। গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ-এর প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৯৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত এশিয়ার চার দেশ
৩০০ বছরেও এমন বৃষ্টিপাত দেখেনি থাইল্যান্ড, বন্যায় মৃত্যু ১৮
জরুরি অবস্থার মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় নিহত বেড়ে ১৯৩
