আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। এছাড়া নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এর মধ্যে ৫৮৯ জনই বিদেশি নাগরিক। পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালের সেনা ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। নিখোঁজ সাড়ে ৫ শতাধিক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হিমালয় অঞ্চল। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কেউ খুঁজে ফিরছেন স্বজনদের। আবার কেউ লড়ছেন বেঁচে থাকার জন্য। পঞ্চম দিনের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূলতার মধ্যেও চলছে উদ্ধার তৎপরতা।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িক স্থগিত থাকার পর শনিবার থেকে আবারও জোরদার করা হয়েছে উদ্ধার অভিযান। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে ব্যবহার হচ্ছে হেলিকপ্টার। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের স্বজনেরা।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সেনা ক্যাম্প ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী।
এর মধ্যেই ভোতে কোশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার খবর জানিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়ছে তিব্বতেও। সময়ের সাথে সাথে সেখানেও পাল্লা ভারী হচ্ছে প্রাণহানি ও নিখোঁজ থাকা মানুষের সংখ্যার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।



