হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢলের ৯ দিন পর একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে ওই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এখনো ওই সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত উদ্ধারস্থল থেকে বিবিসিকে জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহকে উড়োজাহাজে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তর-পশ্চিমে বাত্তার এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কবির মহারাজনকে কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, প্রথম উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় শাহ কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তবে দ্বিতীয় ব্যক্তি কবির মহারাজন উদ্ধারের পর হাসছিলেন। তিনি অন্যদের ধন্যবাদ দেন। উদ্ধার দুজন নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী বলে জানা গেছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওর বরাত দিয়ে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেলের কাদামাখা একটি ফাঁক দিয়ে একজনকে টেনে বের করে আনা হচ্ছে। এ সময় উদ্ধারকারীরা উল্লাস করেন। পরে উদ্ধারকারীদের সহায়তায় তিনি উঠে দাঁড়ান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরেকটি ছবিতে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে কাদায় মাখামাখি অবস্থায় দেখা যায়। উদ্ধারকারীরা তাকে কমলা রঙের স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন।
নেপালে ভয়াবহ এই আকস্মিক দুর্যোগে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৯ দিন পর দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।



