জ্বালানি ইস্যুতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। কিয়েভে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। এর পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিক থেকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং ইউক্রেনকে ইইউ-র দিক থেকে বড় আকারের আর্থিক সাহায্য ও ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবেও ভেটো দিয়েছে হাঙ্গেরি।
এর আগে, দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রুশ তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। এদিকে, রুশ হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়েছিল স্লোভাকিয়া। হাঙ্গেরি সেভাবে কখনো প্রকাশ্য সমর্থন না দিলেও সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধেও এর আগে দাঁড়ায়নি। কিন্তু এবার দুই দেশই যেন হঠাৎ করে ইউক্রেনের ‘শত্রু’ হয়ে গেল দুই দেশ। হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া অবশ্য এর পেছনে ইউক্রেনকেই দুষছে।
জানুয়ারিতে দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রুশ তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। সে সময় কিয়েভ দাবি করে, রুশ হামলায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো জানায়, অংশীদারদের ব্ল্যাকমেইল করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে জেলেনস্কি প্রশাসন।
একই কথা জানায় হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। কিয়েভকে সামরিক সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো এবং ইইউ-তে ইউক্রেনের সদস্যপদ আটকে থাকার প্রতিশোধ হিসেবে এমনটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ দেশ দুটির। স্থলবেষ্টিত দেশ দুটি আরও জানায়, রুশ তেল ছাড়া তাদের জ্বালানি চাহিদা পূরণ অসম্ভব।
এখনও দ্রুজবা পাইপলাইন চালু না হওয়ায় গত সপ্তাহে কিয়েভে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। কিয়েভের অবরোধকে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান এবং স্লোভাক নেতা রবার্ত ফিকো।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন হয়ে রুশ জ্বালানি তেলে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নির্ভরশীলতা কেবল ১১ শতাংশ। তবে, বুদাপেস্ট ও ব্রাতিস্লাভার ওপর কিয়েভের নির্ভশীলতা অনেক বেশি।
ইউক্রেনীয় পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এক্সপ্রোর তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের চাহিদার ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে হাঙ্গেরি। আর স্লোভাকিয়া সরবরাহ করে ১৮ শতাংশ বিদ্যুৎ। এছাড়া, গত বছর ইউক্রেনের গ্যাস চাহিদার ৪৫ শতাংশ পূরণ করে হাঙ্গেরি। স্লোভাকিয়া পূরণ করে ২০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুশ হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এমনিতেই ভেঙে পড়েছে। সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কিয়েভে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর জোর দেন তারা।



