ভারতের হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পথে বিজেপি। এ রাজ্যে ফের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন নওয়াব সিং সাইনি। আর বিজেপিও হরিয়ানায় তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ৩৭টি আসনে ইতোমধ্য়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এগিয়ে রয়েছে ১২টি আসনে। যার মধ্যে ৯টি আসনে ইতোমধ্যে সব কটি রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ। সেগুলোতে আনুষ্ঠানিক জয়ী ঘোষণা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
একাধিক সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত ও ভোটের আগের ঘোষণা ছিল বিজেপি জিতলে নওয়াব সিং সাইনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন। সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দরকার ৪৬টি আসন। সেই সংখ্যা ইতোমধ্যে স্পর্শ করে ফেলেছে বিজেপি। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং লাডওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমান বিধায়ক মেওয়া সিংয়ের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন। গত মার্চে মনোহরলাল খট্টরের কাছ থেকে রাজ্যের শীর্ষ পদ গ্রহণ করেন এই বিজেপি নেতা।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, প্রায় তিন দশক ধরে চলছে নওয়াব সিং সাইনির রাজনৈতিক জীবন। তিনি তৃণমূল স্তর থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন এবং তারপর থেকে হরিয়ানায় বিজেপির উপস্থিতি জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০২ সালে তিনি আম্বালায় বিজেপির যুব শাখার জেলা সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন, তারপরে ২০০৫ সালে তিনি জেলা সভাপতির পদে উন্নীত হন।
বছরের পর বছর ধরে, তিনি বিজেপির কৃষক শাখা কিষাণ মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে তিনি আম্বালায় জেলা সভাপতি হওয়ার পরে তাঁর নেতৃত্বের দক্ষতা আরও স্বীকৃত হয়েছিল।
২০১৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে ৫৪ বছর বয়সী এই নেতা নারায়ণগড় থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি কুরুক্ষেত্র আসন থেকে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরে তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে তিনি কংগ্রেসের নির্মল সিংকে প্রায় ৪ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক নিয়োগের আগে নওয়াব সিং সাইনি গত বছরের অক্টোবর থেকে হরিয়ানা বিজেপির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, দলের নেতৃত্বের সাথে বিশেষত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমএল খট্টরের সাথে ছিল তাঁর ভালো যোগাযোগ।



