জম্মু ও কাশ্মীরে হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ফের সরগরম ভারতের রাজনীতির মাঠ। এ ঘটনায় দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। ‘গায়েব’ নামের একটি পোস্টারও প্রকাশ করেছে দলটি। এর বিপরীতে ‘পাকিস্তানের বন্ধু’ নামের একটি পোস্টার বানিয়ে প্রকাশ করেছে বিজেপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ‘গায়েব’ পোস্টারে স্পষ্টতই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে কারও মুখ নেই, এমনকি অবয়বও নেই। আছে শুধু জামা, জুতো–অনেকটা হলোম্যানের মতো! কিন্তু তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্টাইল-স্টেটমেন্টের সাদৃশ্য অতি স্পষ্ট। এ ছাড়া পোস্টারে বড় বড় করে লেখা ‘গায়েব’। পোস্ট শেয়ার করার সময়েও কংগ্রেস কটাক্ষ করে দলটি বলে, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ে গায়েব!
সোমবার রাতে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে ছবি পোস্ট করে কংগ্রেস। এরপর আজ মঙ্গলবার বিজেপিও প্রকাশ করল নতুন পোস্টার। পোস্টারে দেখা যায়, টাইট-ফিটিং সাদা টি-শার্ট, কালো প্যান্ট এবং মাথায় নেহেরু টুপি পরা একজন ব্যক্তি। লোকটির পিঠ ক্যামেরার দিকে। ডান হাতে পিঠের পেছনে আঁকড়ে ধরে আছে একটি বড় ছুরি। ক্যাপশনে লেখা, ‘পাকিস্তানের বন্ধু’। কারও নাম উল্লেখ না করলেও তিনি দেখতে অনেকটা প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মতো।
বিজেপির অভিযোগ, পাকিস্তানের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক রয়েছে। কাশ্মীরে হামলায় তাঁর সমর্থন থাকতে পারে। তিনি দেশের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কংগ্রেসকে নতুন এক নামও দিয়েছে বিজেপি। তাতে বলা হয়, ‘লস্কর-ই-পাকিস্তান কংগ্রেস’।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, ‘কংগ্রেস পাকিস্তানের কাছ থেকে নির্দেশ নিচ্ছে। কংগ্রেস দলের একই পোস্ট পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী উদ্ধৃত করেছেন। তাই আজ এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, কংগ্রেস ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যোগসাজশ চলছে।’
এদিকে, পেহেলগাম নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন নেই, তা নিয়ে আজ সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, দেশের দুর্ভাগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী পেহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে যাননি। অথচ তিনি বিহারে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। একে লজ্জাজনক বলেও আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।



