ভোট গণনা শুরু হতে না হতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগেই আগেই রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুম ঘিরে শুরু হয়ে গেছে তীব্র উত্তেজনা। এরই মধ্যে গতকাল গভীর রাতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এক বিস্ফোরক বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সতর্ক থাকুন, পাহারা দিন, রাত জাগুন, অভিযোগ করুন!’
ভাবুন তো… একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দিচ্ছেন! দলীয় কর্মীদের বলছেন— “সন্দেহজনক কিছু দেখলে ঘিরে ধরুন!” তাহলে প্রশ্নটা এখন একটাই— মমতা কি সত্যিই ভয় পাচ্ছেন? নাকি এর পেছনে আছে আরও বড় রাজনৈতিক আশঙ্কা?
ভোটের দ্বিতীয় দফা শেষ হওয়ার পর থেকেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। কিন্তু পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে যখন মমতা নিজেই পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। সেখানেই রাখা হয়েছে ভবানীপুরের ইভিএম। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি। বেরিয়ে এসে বলেন— ‘মানুষের ভোট লুট করার চেষ্টা হলে, আমি জান দিয়ে লড়ব।’
এরপর রোববার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ‘পরিকল্পিতভাবে’ লোডশেডিং করা হচ্ছে। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামসহ একাধিক জায়গার নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দফায় দফায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে, সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমনকি স্ট্রংরুমে ‘সন্দেহজনক গাড়ি’ যাতায়াত করছে। আর এখানেই রাজনীতির খেলা আরও গভীর। কারণ তৃণমূল বলছে–এসবের পেছনে বিজেপির ইশারা আছে।
জানা গেছে, তৃণমূলের দলীয় বৈঠকেও মমতা বলেছেন, ‘শুরুর দিকে এমন দেখানো হতে পারে, যেন আমরা হারছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেবিল ছেড়ে উঠবেন না।’
অন্যদিকে বিজেপিও চুপ নেই। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মমতা যখন স্ট্রংরুমে গিয়েছিলেন, তখন বিজেপির এজেন্টরাও সেখানে কড়া নজরদারিতে ছিলেন। মানে, দুই পক্ষই এখন একে অপরকে সন্দেহ করছে।
এই বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তাহলে কি তৃণমূল আগে থেকেই কোনো ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতির’ আশঙ্কা করছে? নাকি এটা শুধুই কর্মীদের সতর্ক রাখার রাজনৈতিক কৌশল? কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার, গণনা শুরুর আগেই বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এখন স্নায়ুযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারা, লোডশেডিংয়ের অভিযোগ, সিসিটিভি নিয়ে বিতর্ক, আর রাতভর নজরদারি; সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন সিনেমার থ্রিলারকেও হার মানাচ্ছে।
এখন পুরো বাংলার চোখ গণনার টেবিলে। কারণ আগামী কয়েক ঘণ্টাই বলে দেবে এটা শুধুই কি রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল? নাকি সত্যিই বাংলার ভোট ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় কোনো কারচুপির আশঙ্কা?



