অবশেষে ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আনলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
আজ শুক্রবার ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রোস্টেটগ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরে একটি ক্যানসারজনিত টিউমার ধরা পড়ে ও এর চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময়ে যাতে বিষয়টি প্রকাশ না পায়, সে কারণে তিনি তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ বিলম্বিত করেছিলেন।
নেতানিয়াহু জানান, চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন ও এখন তার শারীরিক অবস্থা চমৎকার। নেতানিয়াহু বলেন, ‘দেড় বছর আগে আমি একটি বড় কিন্তু ‘নিরীহ’ প্রোস্টেট সমস্যার সফল অস্ত্রোপচার করাই। এরপর থেকে আমি নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ছিলাম।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘সবশেষ পরীক্ষায় প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম একটি ছোট দাগ ধরা পড়ে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি ক্যানসারের খুব প্রাথমিক স্তরের টিউমার, যার কোনো বিস্তার বা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি।’
চিকিৎসকেরা তাকে দুটি পথ দেখিয়েছিলেন উল্লেখ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি হলো চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যাটি সম্পূর্ণ দূর করা, অন্যটি হলো এটি নিয়েই জীবনযাপন করা। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে চেনেন। কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা আগে থেকে জানলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেটি মোকাবিলা করতে চাই। এটি যেমন জাতীয় পর্যায়ে সত্য, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও। তাই আমি চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেরুজালেমে চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়েছে ও এর কোনো চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই।’
শুক্রবার নেতানিয়াহুর বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার এই খোলামেলা তথ্য তুলে ধরেন তিনি। নেতানিয়াহু জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর যাতে ইরান ‘ভুয়া প্রচারণা’ চালাতে না পারে, সে কারণে তিনি দুই মাস ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।



