ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশ মারিব দখলের চেষ্টায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে হুতি বাহিনী। এদিকে, মারিব শহর রক্ষায় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করেছে সৌদি ও সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এ ছাড়া, তায়েজ প্রদেশের কিছু এলাকায় হুতিদের হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।
ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশ মারিব। উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটি ইয়েমেনি সরকারের অন্যতম আয়ের উৎস। সম্প্রতি পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকা দখলের পর মারিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুতি বাহিনী।
হুতিদের ঠেকাতে কৌশলে পরিবর্তন এনেছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। মোখা এবং তাইজের মতো পশ্চিমাঞ্চলে হারানো এলাকায় অভিযান না চালিয়ে মারিবসহ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। মারিবের পতন ঠেকাতে বিমান হামলাসহ পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকারি বাহিনী। ধুবাব এবং মোখা এলাকায় হুতিদের সাঁজোয়া যানের ওপর হামলা হয়েছে।
হুতিদের দাবি, রোববার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এফ-১৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব আগ্রাসন চালানো হয়েছে বলে দাবি হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির।
হামলার শঙ্কায় রোববার ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি হয়। কয়েক ঘণ্টা পরে তা প্রত্যাহার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
হুতিদের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী লড়াইয়ে অন্তত ৫০০ সেনা নিহত ও দেড় হাজারের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। এসব সংঘর্ষে হুতিদের ১ হাজারের বেশি যোদ্ধা নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অভিযানে ইয়েমেনের পুরো পশ্চিম উপকূলের দখল নিয়েছে হুতি বাহিনী। সংঘাতের জেরে পার্শ্ববর্তী জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ২ হাজার মানুষ।



