মানুষের অপেক্ষা ফুরিয়েছে। বিশ্বকাপের দলে না থাকা নিয়ে মুখ খুলেছেন তামিম ইকবাল। এবং ১২ মিনিটের ভিডিওতে যা বলেছেন, তা যদি সত্যি হয়ে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা চিরতরে বদলে যাবে।
তামিম দাবি করেছেন, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে, যেন তিনি বিশ্বকাপের দলে না থাকেন। মিডিয়াতে বিভিন্ন খবর ছড়ানো হয়েছে, যেন সবাই তাঁকে ভুল বোঝে।
আজ ভিডিও বার্তায় তামিম বলেছেন, তাঁকে বিশ্বকাপে না নেওয়ার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা ভুল, ‘মিডিয়াতে যে জিনিসটা এসেছে, চোট, পাঁচ ম্যাচ খেলা- আমার বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে এর বড় অবদান ছিল। আমার কাছে মনে হয় না, আমি বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে এর বড় অবদান ছিল। কারণ, আমি তো এখনো চোটে পড়ি নাই এখনো। ব্যথা থাকতে পারে, কিন্তু চোটে তো পড়ি নাই।’
তাহলে তামিম কেন বিশ্বকাপে যাচ্ছেন না? তাঁর সতীর্থরা সবাই যেখানে গোয়াহাটির উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছন, তখন তিনি কেন ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন? তামিম সে ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘তার এক দুইদিন পর বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমাদের ক্রিকেটের সাথে বেশ জড়িত। উনি আমাকে ফোন করে হঠাৎ করে বললেন, “তুমি তো বিশ্বকাপে যাবা, তোমাকে তো ম্যানেজ করে খেলাতে হবে। তুমি এক কাজ কর, প্রথম ম্যাচ খেলিও না। আফগানিস্তানের সাথে।” আমি বললাম, “ভাই, এটা তো এখনো ১২-১৩ দিনের কথা। ১২-১৩ দিনের মধ্যে তো আমি ভালো কন্ডিশনে থাকব। আমি কী কারণে খেলব না।” তখন বলল যে, “আচ্ছা তুমি যদি খেল, আমরা এরকম একটা প্ল্যান করছি বা আলোচনা করছি, যদি খেল, তোমাকে আমরা নিচে ব্যাটিং করাব।”’
এমন প্রস্তাবে চমকে গিয়েছিলেন তামিম, ‘স্বাভাবিকভাবে আপনাদের মনে রাখতে হবে, কোন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। একটা ভালো ইনিংস খেলেছি, খুশি ছিলাম। হঠাৎ করে এসব কথা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। আমি ১৭ বছর ধরে এক পজিশনে ব্যাটিং করেছি, জীবনে কোনোদিন তিন-চারে ব্যাটিংই করিনি। এমন যদি হতো আমি তিনে ব্যাটিং করি, চারে ব্যাটিং করি, তারপর যদি উপরে-নিচে করা হয়, তখন সেটা মানা যায়। আমার তিন-চার-পাঁচে ব্যাট করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমি তাই কথাটা ভালোভাবে নেইনি।’
এরপরই তামিম বলেন তাঁকে ছাড়াই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে, ‘উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার মনে হচ্ছিল, আমাকে জোর করে অনেক জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছা করে। এটা ঠিক হয়ে গেছে, আচ্ছা এখন নতুন আরেকটা জিনিস করি। আমার তাই মনে হয়েছে। তখন আমি বললাম, “দেখেন, আপনারা একটা কাজ করেন, আপনাদের যদি এমন চিন্তা ভাবনা থাকে, তাহলে আমাকে আপনারা পাঠাইয়েন না। আমি এই নোংরামির মধ্যে থাকতে চাই না। প্রতিদিন আমাকে এক একটা নতুন জিনিস ফেস করাবেন। এর মধ্যে আমি থাকতে চাই না।”’
তামিমের মনে হয়েছে বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের মধ্যে এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকার কোনো মানে হয় না, ‘তারপরও ফোনে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। যা এই প্ল্যাটফর্মে আমার বলা উচিত বলে মনে হয় না। আমার আর ওনার মধ্যেই থাক।” এরপর আমি এটাই শক্তভাবে বলেছি, এই নোংরামির মধ্যে থাকতে চাই না। আপনারা চাইলে আমাকে দলে নির্বাচন করিয়েন না। এসব আমি মানতে পারব না।’


তামিম নিজেই বিশ্বকাপে যেতে চাননি, দাবি মাশরাফির
বিশ্বকাপ দল নিয়ে নির্বাচকদের যা বলেছিলেন তামিম
বড় জিনিস ঢাকার জন্য মিডিয়াকে অনেক খবর খাওয়ানো হয়: তামিম
বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক তামিম, বললেন বাদ দেওয়া 'ইনটেনশনাল' 
