আপনারও কি আছে নোমোফোবিয়া?

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৫ এএম

বর্তমানে  তথ্য–প্রযুক্তির যুগে পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয়। এখন মোবাইল ফোন দিয়ে করা যায় না, এমন কাজের সংখ্যা খুব কম। কোনো জিনিসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি যখন মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে, তখনই সেটিকে ‘ফোবিয়া’ বলা হয়। ফোবিয়ায় ভয় যখন তীব্রমাত্রায় আতংকে রূপ নেয়, তখন দুশ্চিন্তায় স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত হয়। মোবাইল ফোন নষ্ট হলে, হারিয়ে গেলে বা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। এসব লক্ষণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে  ‘নোমোফোবিয়ায় হিসেবে  উল্লেখ করা যেতে পারে।

নোমোফোবিয়ার লক্ষণ
১. মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলে দুশ্চিন্তা, ভয়, প্যানিক বোধ করা ।
২. মোবাইল ফোন বন্ধ রাখলে অথবা কিছুক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে না পারলে উদ্বিগ্ন এবং অস্থির লাগা।
৩.  ফোন খুঁজে না পেলে প্যানিক এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া।
৪.  মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলে খিটখিটে মেজাজ, মানসিক চাপ বোধ করা এবং অস্থির  আচরণ করা।

শারীরিক লক্ষণ 
১. বুক চেপে ধরা।
২. দমটা আটকে থাকা।
৩. থরথর করে কাঁপা। 
৪. ঘেমে যাওয়া। 
৫. মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া
৬. মাথা ঝিমঝিম করা বা কিছু খেয়াল করতে না পারা। 
৭.  এলোমেলো চিন্তা করতে থাকা।
৮. বুক ধক ধক করা
৯. শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি দ্রুত হওয়া ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রে সবগুলো শারীরিক লক্ষণই যে থাকতে হবে তা কিন্তু নয়।

ছোটবেলায় আমরা একটা রচনা পড়েছিলাম, 'বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ'।  সেই ভাবনা দিয়ে বর্তমানে মোবাইল ফোনকে নিয়ে চিন্তা করা সময়ের দাবি। শুধু তাই নয়,  মোবাইল ফোন কিন্তু আমাদের শিশুদের খেলার মাঠ থেকে ঘরে ঢুকিয়ে ফেলেছে। বন্ধুদের থেকে আলাদা করে দিচ্ছে। যতই আমরা খোলা মাঠ নেই বলে গলা শুকাই না কেন? বাসায় শিশুরা বেড়াতে আসলে কিন্তু প্রথমেই ইন্টারনেটের পাসওয়ার্ড খোঁজে। বর্তমানে শিশুরা মাঠ পেলে খেলতে যাচ্ছে কি?

কীভাবে বুঝবেন আপনি নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত
১. তীব্র ভয় পাবেন। ভয় না পাওয়ার কষ্ট কমাতে যেভাবেই হোক ফোনটা নিজের কাছে রাখাটা নিশ্চিত করবেন। 
২. কেউ কেউ ফোন বিছানায় নিয়ে ঘুমায়, আবার বাথরুমেও নিয়ে যায়। এমনকি তীব্র মাত্রায় আক্রান্ত হলে ফোন গোসল করার সময় শাওয়ারের তলায়ও ধরে থাকে।
৩. ঘন ঘন ফোন দেখতে থাকা। যেন একটা নোটিফিকেশনও বাদ পড়ে না যায়। 
৪. দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকা।
৫. ফোন ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করা।
৬. যে কোন মূল্যে মোবাইল ফোন হাতে, পকেটে বা কাছে রাখা নিশ্চিত করা।

কাদের বেশি হয়?
কিশোর–কিশোরী এবং তরুণ–তরুণীরা অধিক নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হন।

কারণ কি? 
এখনো পুরোপুরি কারণ বের করা যায়নি। ২০২০ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে বিগত দশকের মোবাইল ফোনের ব্যবহার হওয়া এর একটি বড় কারণ। 

কীভাবে কি হচ্ছে? 
এখন মানুষ মোবাইল ফোনকে তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরেছে। যার ফলে বারবার অযাচিতভাবে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত চিন্তা এবং আচরণ তার সমস্ত কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত এবং ক্ষেত্র–বিশেষে নিয়ন্ত্রণ করছে। 

কীভাবে হয়?
১. নিঃসঙ্গতা একটি বড় কারণ।
২. অন্যদের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করা বা যোগাযোগ যখন কমে যায়, তখন অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের সহজতম মাধ্যম হয় ফোন। 
৩. আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং সামাজিক পরিবেশে মুখোমুখি যোগাযোগের অদক্ষতা। 
৪. দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে সময় দেওয়া। এখানে স্ক্রিন থেকে নির্গত ব্লু লাইট অ্যাডিকশন তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
৫. আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ মোবাইল ফোনের অগ্রহণযোগ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে স্বস্তি খুঁজছে। শুধু তাই নয়, যাদের অন্যান্য মানসিক ডিসঅর্ডার যেমন: সামাজিক ভয় বা দুশ্চিন্তা, প্যানিক ডিসঅর্ডার ইত্যাদি আছে তাদের মধ্যে নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। 

জীবনানন্দ দাশ চমৎকার বলেছিলেন, ‘সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন। থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।’  আধুনিক নগরমুখী জীবন আমাদের এই মুখোমুখি বসিবার অবসরটুকু নিজের অজান্তেই অবচেতন মনে ছিনিয়ে নিচ্ছে। ইদানীং নিজের চোখের সামনে আয়না ধরলে, প্রায়শই নিজের জীবনযাপনের মান দিয়ে বুঝি, ব্যাপক মাত্রায় ডিজিটাল জীবনচর্চা, আমাদের জীবনকে দিয়েছে বেগ। কেড়ে নিয়েছে আবেগ।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে যখন শহর-গ্রাম পুড়তে থাকে। তখন হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিকে স্বাগত জানায়। কিন্তু এই আকস্মিক আবহাওয়া...
বাইরে প্রচণ্ড রোদে বেশি সময় থাকলে যেমন হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তেমনি পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় এই দুই অবস্থার লক্ষণ একই রকম...
পার্কে হাঁটতে যাওয়া বা গাছপালার ভেতর কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর যদি আপনার মন একটু হালকা লাগে। সেটা কেবল অনুভূতি নয়, এর পেছনে আছে শরীরের বাস্তব পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প সময় প্রকৃতির মধ্যে...
অনেকেই আছেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, হাঁটাহাঁটি করেন, এমনকি জিমেও যান। তারপরও শরীরের কোথাও না কোথাও ব্যথা থেকেই যায়। কখনো কোমর ব্যথা, কখনো ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আবার কখনো কাঁধে টান। তখন আমরা ভাবি, ‘আরও...
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নিতে মুম্বাইয়ের চৈত্যভূমিতে কয়েকজন একত্রিত হয়েছিলেন। সেখান থেকেই ফাহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে পুলিশের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।...
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যে নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়েছে, সেই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে...
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন চাচাতো দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
গাড়ি চালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বা প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
লোডিং...

এলাকার খবর