গ্রীষ্মের চরম তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার উপক্রম। বাইরে সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ। গরমে অনেকেই আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন হিট স্ট্রোকে। সাধারণত বৃদ্ধ ও শিশুরা হিট স্ট্রোকে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হতাহতের খবরও আমরা পাচ্ছি। কোমলমতি শিশুরাও তীব্র গরমের ক্ষতিকর দিক থেকে নিরাপদ নয়।
শিশুর যেসব সমস্যা হতে পারে
১. পানিশূন্যতা: প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শিশুর পানিশূন্যতা হতে পারে।
২. পেটের পীড়া: গরমে কিছু কিছু জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং যত্রতত্র পথের ধারের শরবত, পানি, আইসক্রিম খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হতে পারে।
৩. জ্বর: অত্যধিক গরমে শিশুদের উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দিতে পারে।
৪. ঠান্ডা কাশি : ঘাম বসে গিয়ে ঠান্ডা কাশি ও টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
প্রচন্ড মাথাব্যথা, জ্বর ১০৩ ফারেনহাইটের উপরে চলে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাওয়া, ঘামতে ঘামতে এক সময় আর ঘাম না হওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে গিয়ে জড়িয়ে যাওয়া, আবোলতাবোল বকতে থাকা এবং কখনো কখনো খিঁচুনিও হতে পারে।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
১. শিশুদের যতটা সম্ভব ঘরে রাখতে হবে। বাড়ির বাইরে রোদে যেতে দেওয়া যাবে না।
২. শিশুকে সব সময় ফ্যানের নিচে রাখতে হবে।
৩. শিশুকে প্রচুর পানি পান করাতে হবে। বাসায় বানানো লেবুর শরবত ও ডাবের পানি উপকারি।
৪. শিশুকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি ও আইসক্রিম না দেওয়াই ভালো।
৫. শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ক্ষেত্রে রুম টেম্পারেচার ব্যবহার করতে হবে।
৬. প্রতিদিন শিশুকে গোসল করাতে হবে। ঘাম যেন না বসে যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭. সুতির জামা কাপড় পরাতে হবে।
৮. আপনার শিশু দিনে ৬ বারের বেশি প্রস্রাব করছে কিনা খেয়াল করতে হবে।
৯. গ্রামের বাড়িতে ছায়া সুনিবিড় শীতল পরিবেশে শিশুদের রাখতে হবে।
১০. টিনের বাড়ির ক্ষেত্রে মাটির অথবা চটের চালা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘর ঠান্ডা থাকবে।
লেখক: সহকারী রেজিস্টার (শিশু নেফ্রোলোজি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর
আরও পড়ুন:



