চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ২৭৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩৮টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৫টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৩টি ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের শিকার ৩৮ জনের মধ্যে ৬ জন শিশু, ১৮ জন কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ জন শিশু, ৫ জন কিশোরী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ২ জন শিশু ও ১ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ১৪টি, যৌন হয়রানি ১৩টি, শারীরিক নির্যাতনের ৩৮টি ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত 'মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন এপ্রিল, ২০২৪' এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় এমএসএফ। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমএসএফ এর পক্ষ থেকে প্রতি মাসে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন; ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতা বিশেষ করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বিগত মাসগুলোর মতো একই ধারাবাহিকতায় ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতারোধে দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় নি।
এপ্রিল মাসে ৩ জন শিশু, ১৯ জন কিশোরী ও ৪৫ জন নারীসহ মোট ৬৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু, ২ জন কিশোরী ও ১ জন নারী। এ ছাড়া গতমাসে ২ জন শিশু, ২ জন কিশোরী ও ৪ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৭৬ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ২৩ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গতমাসে ৮ জন মৃত ও ২ জন জীবিত মোট ১০ জন নবজাতক শিশুকে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়। এ সমস্ত শিশুদেরকে কি কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নিরূপণের চেষ্টা করছে না।
আরও পড়ুন:


মার্চে ২৪৫ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার: মহিলা পরিষদ
