সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আর ১৩ অক্টোবর রোববার পূজার ছুটি। নির্বাহী আদেশে বৃহস্পতিবারের ছুটি যুক্ত হলে দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চারদিনের ছুটিতে থাকবে দেশ। কর্মব্যস্ত জীবনে ছুটি মিলিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার অবসর সহজে মিলে না। এবার তাই এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইবে সবাই। কিন্তু কোথাও ঘুরবেন? আপনার পরিকল্পনা সহজ করে দিতে নগরের কাছে দূরে এমন কিছু গন্তব্যের তথ্য থাকছে আজ।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর
প্রকৃতির অকৃত্রিম, অফুরন্ত সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। আর বাংলার এই অবিচ্ছেদ্য সৌন্দর্যের অংশ সুনামগঞ্জ জেলার হাওর। শরতে টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য বেড়ে যায় দ্বিগুণ। দেশের অন্যতম সুন্দর ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় জলাভূমি এটি। পূজার ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুরা মিলে ঘুরে আসতে পারেন সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে। টাঙ্গুয়ার হাওরের অন্যতম আকর্ষণ হলো নৌকায় থাকার দিনগুলো। এই অভিজ্ঞতাটিই টাঙ্গুয়ার হাওরের ট্যুরকে আলাদা করে অন্য সব ট্যুর থেকে। বৃষ্টির সময়ে নৌকায় বসে চায়ের চুমুকে দূর মেঘালয়ের পাহাড়গুলোর দৃশ্য যেন জাগিয়ে তুলে যে কারও ভেতরের কবিকে। বর্তমানে থাকার জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক নৌকা প্রচলিত হওয়ায় এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অনায়াসে এই হাওর ঘুরে আসা সম্ভব। উল্লেখযোগ্য হাউসবোটগুলো হলো- জলছবি, জলরঙ, বজরা, জলনিবাস, জলতরঙ্গ, ফ্লোটিং হাউস অফ টাঙ্গুয়া, আটলান্টিস, ফেলকন, সিন্দাবাদ তরী ও বেহুলা। ওরের বুকে জেগে থাকা জলাবন, জাদুকাটার মুগ্ধ করা স্বচ্ছ পানি আর বারিক্কাটিলা থেকে মেঘ জমে থাকা ভিউ সবকিছুই যেন এক পরিপূর্ণতা এনে দেয় হাওরাঞ্চলকে। বোটে ভ্রমণের বিস্তারিত প্যাকেজ জেনে নিতে পারবেন বোটগুলোর নাম থাকা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে।
কীভাবে যাবেন: টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার জন্য প্রথমে যেতে হবে সুনামগঞ্জ জেলায়। ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি সুনামগঞ্জে যাওয়া যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিলেট হয়ে সেখান থেকেও সহজেই সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। সুনামগঞ্জ থেকে তাহেরপুর যেতে হবে লেগুনা কিংবা অটোরিকশায়। এ ছাড়া এ পথে মোটরবাইকেও যাত্রী পরিবহন করা হয়। তাহেরপুর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন রকম নৌকা ভাড়ায় পাওয়া যায়।
প্রাচ্যের ভেনিস বরিশাল
ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল। এ অঞ্চলের নানাদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নদী, খাল। দিনে-রাতে এসব নদী-খালে চলে জোয়ার-ভাটার অপূর্ব খেলা। আর ধানের মৌসুমে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যায়। বরিশাল বিভাগ মূলত ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলা জেলা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বাংলার ভেনিসখ্যাত বরিশাল জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের সব সময়ই মন জুড়াতে সক্ষম।
এখানের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে- মিয়াবাড়ি মসজিদ, দুর্গাসাগর দীঘি, গুঠিয়া মসজিদ, লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, শাপলার রাজ্য সাতলা গ্রাম, অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, ছারছীনা দরবার শরিফ, উলানিয়া জমিদারবাড়ি, কলসকাঠী জমিদারবাড়ি, কীর্তনখোলা নদী, পাদ্রিশিবপুর গির্জা, শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর।
অপরূপ সুন্দরবন
পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকায় সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত বনাঞ্চল। প্রতি বছর দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসেন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটি দেখতে। পুজোর ছুটিতে সুন্দরবন হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। শহুরে কোলাহলের বাইরে গিয়ে অপরূপ প্রকৃতি দেখতে সুন্দরবনের জুড়ি মেলা ভার। সুন্দরবনের করমজল ও হাড়বাড়িয়া এই দুটো জায়গা মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছে। করমজল হরিণ ও কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র। হাড়বাড়িয়ার মূল আকর্ষণ কাঠের ট্রেইল, পদ্মপুকুর ও ওয়াচ টাওয়ার। কটকায় একটি কাঠের ট্রেইল রয়েছে, যেখান থেকে দেখা যায় হরিণের দল, নানা পশুপাখি আর কিছুদূর পরেই সমুদ্রসৈকত। দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষা এই কটকা সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা। সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য হিরণ পয়েন্ট। এখানে কাঠের তৈরি রাস্তায় হাটতে হাটতে অনেক ধরণের বন্য প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও দেখা মিলতে পারে।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সুন্দরবনে যেতে চাইলে প্রথমে যেতে হবে খুলনা। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা অথবা সাতক্ষীরার শ্যামনগর হয়ে সুন্দরবনে যাওয়া যায়। একদিনের জন্য সুন্দরবন ঘুরে দেখতে চাইলে করমজল অথবা হাড়বাড়িয়া যেতে হবে। মোংলা থেকে করমজল ও হাড়বাড়িয়া যেতে হয়। সেখান থেকে ট্রলারে করে একদিনের জন্য সুন্দরবনের কিছু জায়গা ঘুরে আসা যায়। সুন্দরবনে যেতে বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন হয়। নিজ ব্যবস্থাপনায় সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়া ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হওয়ায় আপনি চাইলে ট্যুর অপারেটরদের সাহায্য নিতে পারেন। ট্যুর অপারেটরদের বিভিন্ন রকম প্যাকেজ থাকে। তবে তিন দিন-দুই রাতের প্যাকেজটিই বেশি জনপ্রিয়। সাধারণত এসব প্যাকেজে ভ্রমণের অনুমতি এবং ফি, খাওয়ার খরচ, সুন্দরবনের কিছু দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখাসহ সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অবশ্যই প্যাকেজ নেওয়ার আগে ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে প্যাকেজের বাইরে কোনো ধরনের খরচ আছে কি না।
প্রকৃতিকন্যা সিলেট
সবুজের সমারোহ আর টিলাবেষ্টিত পাহাড়, শীতল জল কিংবা প্রকৃতি কোনো কিছুরই কমতি নেই পর্যটন নগরী সিলেটে। চা বাগান, জাফলং, রাতারগুল জলাবন, হাকালুকি হাওর, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, তামাবিল, পাহাড়, ঝর্ণা সব মিলিয়ে নানা বৈচিত্র্যের সম্ভার এই সিলেট দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী। পুজোর ছুটিতে তাই তিন-চার দিনের প্ল্যান করে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতিকন্যা দেখতে। একদিন বা দুদিনে দর্শনীয় বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে ব্যক্তিগত বাহন না থাকলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিতে পারেন সিএনজি অটোরিকশা বা মাইক্রোবাস। সিলেট শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত বাহনে প্রথমে যেতে পারেন গোয়াইনঘাট উপজেলার বিখ্যাত জলাবন রাতারগুলে। রাতারগুল থেকে ফতেহপুর-হরিপুর-তামাবিল সড়ক হয়ে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে সোয়া এক ঘণ্টায় যাওয়া যাবে লালাখালে। জৈন্তাপুর উপজেলার সারি নদের আরেক নাম লালাখাল।
নীলজলের লালাখাল থেকে সরাসরি যেতে পারেন সিলেটের শাপলার রাজ্য ডিবির হাওরের শাপলা বিলে। ১০ কিলোমিটার দূরত্ব শাপলা বিল স্বাগত জানাবে ৩০ মিনিটের মধ্যে। ডিবির হাওরকে বিদায় জানিয়ে তামাবিল সড়ক হয়ে ৮ কিলোমিটার দূরত্ব জৈন্তাপুরের শ্রীপুর চা-বাগান, হ্রদ ও রাংপানি নদ। তামাবিল সড়কের দুই পাশের চা-বাগান ও এর পাশঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড় মুগ্ধতা দেবে কিছু সময়ের জন্য। শ্রীপুর লেকের উল্টো দিকে পায়ে হেঁটে নামতে পারেন পাথুরে নদ রাংপানিতে। ভ্রমণের শেষটা করতে পারেন জাফলংয়ে। নৌকা না নিয়ে সংগ্রামপুঞ্জির সোনা টিলা হয়ে পায়ে হেঁটে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে হরেকরঙা পাথর ও ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ দেখতে যেতে হবে জিরোপয়েন্ট। হাতে সময় থাকলে সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনাও দেখতে পারেন। ডাউকি নদীর পাশেই রয়েছে খাসিয়াপল্লি ও পানপুঞ্জি। সময় থাকলে যাওয়া যেতে পারে সেখানেও।


প্লেনের হ্যান্ড লাগেজে তরল দ্রব্য বহন করা যায় না কেন?
ঘুরে আসতে পারেন দেশের পরিবেশবান্ধব তিন ভ্রমণ গন্তব্য থেকে
সাড়ে পাঁচ’শ বছর পুরনো দিনাজপুরের এই সুরা মসজিদ
কালের সাক্ষী টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি
