ঘটনাটা ১৫ জানুয়ারি দিনগত রাতে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ১১ তলার ফ্ল্যাটে হামলার শিকার হন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। একজন অনুপ্রবেশকারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে প্রায় জিম্মিই করতে যাচ্ছিল ছোট ছেলে জেহকে। এরপর অভিনেতা ও পরিচারিকার মুখোমুখি হয় সে দুষ্কৃতি! সাইফ হস্তক্ষেপ করে সেই ব্যক্তিকে আটকানোর চেষ্টা করলে ছুরি দিয়ে আক্রমণ চালায়। সাইফের গোটা শরীরে ৬ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিনেতাকে নিতে হয় হাসপাতালে।
এরপর?
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) লাগাতার চিরুনিতল্লাশি। মুম্বাই পুলিশের ২০টি টিম মাঠে। ১৬ জুলাই সকালে জানা যায়, ৩ জন আটক। এরপর জানা যায়, ৩ জন নয়, সংখ্যাটা ১!
বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনে তল্লাশির সময়েই তার খোঁজ পায় পুলিশ। সেই সময় আততায়ী ইতস্তত সেখানে ঘুরছিল বলে জানা যায়। তার সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে পুলিশের। এর পরেই আটক করা হয় তাকে। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চলে। এরপর আর হদিস নেই।
১৮ জুলাই রাতে ১ জনকে গ্রেপ্তারে খবর আসে। ১৯ জুলাই তার নাম সামনে আসে; শরিফুল ইসলাম শেহজাদ। এরপর বলা হয় সে বাংলাদেশি!
যেভাবে আটক করা হয় শরীফুলকে
পুলিশের দাবি, প্রথমে তাঁকে মুম্বাইয়ের দাদর এলাকার একটি দোকানের সামনে দেখা যায়। জানা যায়, একটি হেডফোন কিনেছেন তিনি। এর পর আন্ধেরির ডিএন নগর এলাকার একটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় একটি মোটরবাইক থেকে নামছেন ওই সন্দেহভাজন। থানে এলাকায় পৌঁছে পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অভিযুক্তকে। তার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয় একটি কাস্তে জাতীয় অস্ত্রও।
দাবি করা হচ্ছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল স্বীকার করেছেন কাজের অভাবেই চুরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম রাতেই ঢুকেছিলেন সাইফের ঘরে। কিন্তু জানতেন না কার বাড়ি চুরি করতে যাচ্ছেন। শরিফুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, সে রাতে গৃহকর্তাকে আঘাত করে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে টিভি দেখে বুঝতে পারেন, বিষয়টি বড় আকার ধারণ করতে চলেছে। সেই মুহূর্তেই এ দিক-সে দিক ঘুরে পার্শ্ববর্তী থানে এলাকায় গিয়ে শ্রমিক বসতিতে আশ্রয় নেন। বন্ধ করে দেন নিজের মোবাইল ফোনটি। কিন্তু শেষতম লোকেশন দেখে পুলিশ সহজেই পৌঁছে যায় থানের শ্রমিক মহল্লায়। থানের এক নির্জন এলাকায়, ম্যানগ্রোভ ঝোপে নিজের আস্তানা করে নিয়েছিলেন শরিফুল।
বাংলাদেশি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন
শরিফুলের আইনজীবী সন্দীপ শেখানে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল যে বাংলাদেশের নাগরিক, এমন কোনও প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই। গত সাত বছর ধরে সপরিবার শরিফুল মুম্বাই এলাকায় বাস করছেন।
কী বলছে মুম্বাই পুলিশ
ভারতীয় গণমাধ্যমে একেবারে বলে দিচ্ছে শরিফুল বাংলাদেশি? আসলেই কি তাই? মুম্বাই পুলিশের ডিসিপি দীক্ষিত গেডামের ভিডিও দেখে বক্তব্য অনুবাদ করলে দাঁড়ায় তা হলো—‘ওই অভিযুক্ত বাংলাদেশি, এ বিষয়ে আমার ডাউট আছে। তবে ওর কাছে কোনও ভারতীয় নথি নেই। আমাদের সন্দেহ ও বাংলাদেশি হতেও পারে। হামলাকারীর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনেও মামলা করা হচ্ছে।’
পুলিশের বয়ানে যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
পুলিশের বক্তব্যে বলা হয়েছিল, শরিফুল মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আবার গ্রেপ্তার করার বর্ণনার সময় দাবি করা হচ্ছে, সে হেডফোন কিনছিল! প্রশ্ন—মোবাইল যদি বন্ধই রাখে তাহলে হেডফোন কী করবে?
অন্যদিকে, অভিযুক্তের কাছে পাওয়া গেছে ‘কাস্তে’র মতো ‘নিরীহ’ ভোতা অস্ত্র! খুনি নিজেকে আড়াল করতে চাইলে, আবার অস্ত্রই বা কেন নেবে? পুলিশকে মোকাবিলা করতে? তাও এমন অস্ত্র! এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি!



