‘উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে’
বাংলায় ভাবসম্প্রসারণ লিখতে গিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামায়নি, এমন শিক্ষার্থী এই বঙ্গে পাওয়া বেশ কঠিন। এ ভাবের সম্প্রসারণ করতে গিয়ে যে জ্ঞান মাথায় ঢোকে, সেটি হলো–যিনি উত্তম তিনি নাকি সবার সঙ্গেই মেশেন। আর যিনি উত্তমও নন, আবার অধমও নন, বরং মধ্যম, তিনি সবার সাথেই এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। ঠিক একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয় বিত্তের ক্ষেত্রেও। বিত্তের হিসাবে উত্তম বা অধম যতটা দুশ্চিন্তায় থাকে, মধ্যম তার চেয়ে বেশি ভাবনায় ভোগে। কারণ, মধ্যমের দুটি কাজ করতে হয় একসাথে। একটি হলো অধম হওয়া ঠেকানো, অন্যটি হলো উত্তমে উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে এই বিত্তের হিসাবে মধ্যমে থাকা মানুষেরা এই দুটি কাজ করতে গিয়েই খাবি খাচ্ছে!
চলুন, এবার আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির সুলুক‑সন্ধান করা যাক। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। সেগুলো হলো–এ দেশে মধ্যবিত্ত কারা? কতজন? কতটা চাপে তারা? মধ্যবিত্তরা এ দেশের আশীর্বাদ হচ্ছে, নাকি অভিশাপ? নাকি এ দেশে মধ্যবিত্ত হওয়া মানেই খাল কেটে কুমির ডেকে আনা?
বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত আসলে কত?
বিশ্বব্যাপী মধ্যবিত্ত বা মিডল ক্লাসের সংজ্ঞায়ন নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা আছে। কোনো পক্ষ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যবিত্তকে চিহ্নিত করে। আবার কোনো পক্ষ মনে করে, মধ্যবিত্তকে সমাজতত্ত্বের নিরিখে বিচার করা উচিত। কারণ, দিনশেষে এটি একটি সামাজিক স্তরভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস। আর বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রেণিই একটি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রের গতিপ্রকৃতির নিয়ন্তা। ফলে এই শ্রেণির ভালো বা মন্দ থাকাটা সংশ্লিষ্ট দেশ ও জনসমাজের ভালো‑মন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর।
গোটা বিশ্বে মধ্যবিত্তকে ঘিরে যেসব সম্ভাবনা ও শঙ্কা চলমান, সেসবের পরিপ্রেক্ষিতেই আসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। মুশকিল হলো মধ্যবিত্ত কারা–এ নিয়ে বিশ্বব্যাপীই এক ধরনের বিতর্ক রয়েছে। সেই বিতর্ক বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সত্য।
এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট কতজন মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্ত মানুষ আছেন, তার নিখুঁত হিসাব নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আয়‑ব্যয়ের একটি খানাজরিপ সাধারণত করে থাকে। সেখান থেকে আয়সীমা ধরে একটি আকার অনুমান করা হয়ে থাকে। এই আয়সীমা নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রেও নানা মত আছে বৈশ্বিকভাবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সাধারণত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবির হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক আয় ২ থেকে ২০ ডলারের মধ্যে হলে মধ্যবিত্তের আওতায় ফেলার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এই হিসাব কিন্তু ২০০৫ সালের ডলার পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার ভিত্তিতে তৈরি। এটি একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিও বটে। তবে হ্যাঁ, বলতেই হয় যে, মধ্যবিত্ত নির্ধারণের এই পরিমাপকটি অর্থের বিচারে ন্যূনতম যোগ্যতার মতো।
এর বাইরে পুরো পৃথিবীতেই মধ্যবিত্ত চিহ্নিতকরণের নানা পরিমাপক প্রচলিত আছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্যভেদে মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক সংজ্ঞায়ন ভিন্ন। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট মোট জনগোষ্ঠীর মিডিয়ান ইনকামের (গড় আয়) ৭৫ থেকে ১২৫ শতাংশ আয় করতে পারলে মধ্যবিত্তের তকমা মেলে। এ তো গেল একেবারে কথিত সর্বোচ্চ উন্নত দেশের উদাহরণ। এর বাইরে ভারতের পদ্ধতিকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। সেখানে এখন পর্যন্ত বছরে ৩ লাখের কিছু বেশি থেকে ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত আয় করলে মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, দেশভেদেও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নির্ধারণের বিশেষায়িত পদ্ধতি আছে।
আবার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রা বিনিময়ের হার বিবেচনায় যেসব পরিবার বছরে ৩ হাজার ডলার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য আয় করে থাকে, তাদেরই মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। বিখ্যাত পিউ রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবারের দৈনিক আয় যদি ১০ ডলার ১ সেন্ট থেকে ২০ ডলারের মধ্যে হয়, তবে তারা মধ্যবিত্ত। এ হিসাবে এই শ্রেণির মানুষের বার্ষিক আয় ১৪ হাজার ৬০০ থেকে ২৯ হাজার ২০০ ডলার। হিসাবটি করা হয়েছে ২০১১ সালের ক্রয়ক্ষমতার (পিপিপি) মানের ভিত্তিতে।
সুতরাং মধ্যবিত্ত নির্ধারণের মানদণ্ড নানা রকমের হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে এডিবির দেওয়া পদ্ধতি আদরণীয়। এই ন্যূনতম সীমা ব্যবহারে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির আকার বেশ বড় দেখায়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তৎকালীন গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন ২০১৫ সালে এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর একটি গবেষণা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিয়ে সেটিই সবচেয়ে বিশদ গবেষণা। সেটির শিরোনাম ছিল, ‘সাইজ অ্যান্ড গ্রোথ অব দ্য মিডল ক্লাস ইন বাংলাদেশ: ট্রেন্ডস, প্রোফাইলস অ্যান্ড ড্রাইভারস’। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের ওই সময়কার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বা ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ ছিল মধ্যবিত্ত।
বিআইডিএস এ গবেষণাটি করেছিল ঢাকা শহরের ১২টি এলাকায়। গবেষণার নমুনার সংখ্যা ছিল ৮০৯। মধ্যবিত্তের সেই হিসাবটি ২০১০ সাল ধরে করা হয়েছে। অতীতের একই প্রবণতা ধরে নেওয়া হলে ২০১৫ সালে এসে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী মোট জনগোষ্ঠীর সাড়ে ২২ শতাংশ হবে। মূল গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত ছিল। প্রায় দুই দশক পরে এ মধ্যবিত্তের হার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
বিআইডিএস‑এর গবেষণায় একটি পূর্বাভাসও ছিল। সেটি হলো, ২০২৫ সালে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির আকার মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে ও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যবিত্ত হবে।
এই গবেষণা হওয়ার ৫ বছর পর ২০২০ সালের অক্টোবরে ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে সাক্ষাৎকার দিয়ে ড. বিনায়ক সেন বলেছিলেন, ৪ সদস্য সংখ্যার পরিবার ধরে হিসাব করলে তাঁর মতে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয় হওয়া উচিত ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এ ক্ষেত্রে মূলত এতদঞ্চলে দৈনিক ২ থেকে ৪ ডলার আয়ের ভিত্তিতে (পিপিপি হিসাবে) এই আয়সীমা নির্ধারণ করা যায়। বিনায়ক সেন এও বলেছিলেন যে, ওই সময়ে; অর্থাৎ, ২০২০ সালের অক্টোবরে দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ৩০ শতাংশ এই শ্রেণিভুক্ত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ওই হিসাব ধরলে প্রায় ৪ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে ধরে নেওয়া যায়।
অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ডেটা ল্যাবের ২০২১ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে নতুন মধ্যবিত্ত যুক্ত হবে ৫ কোটি ২৪ লাখ মানুষ। এ ক্ষেত্রে একটি পরিবারে প্রতিদিন ১১ ডলার থেকে ১১০ ডলার খরচ করেছে–এমন মানুষকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নিবন্ধ বা কলাম ঘেঁটেও দেখা গেছে যে, প্রায় প্রতিটিতেই বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের আকার কম‑বেশি সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পর্যন্ত ধরা হয়েছে। বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরাও তেমনটাই বলছেন।
আবার ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এ দেশের মধ্যবিত্তদের নিয়ে আরেকটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। এই সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রটির শিরোনাম, ‘Who Belongs to the Middle Class? Identifying Them Using Monthly Family Income’। এটির লেখকেরা হলেন মো. ফুয়াদ আল ফিদা, সৈয়দা এস ইফা ও মো. আবদুল্লাহ সাইদ খান। এই তিন গবেষক মধ্যবিত্ত নির্ণয়ের পদ্ধতি হিসেবে মিডিয়ান ইনকামকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট মোট জনগোষ্ঠীর মিডিয়ান ইনকামের ৭৫ থেকে ১২৫ শতাংশ আয় করতে পারলে মধ্যবিত্তের তকমা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ান ইনকাম হিসাব করা হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানাজরিপের আয়‑ব্যয়ের পরিসংখ্যান ধরে। ২০২৩ সালের মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য সূচক মাথায় রেখে করা এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ওই সময়ের সামাজিক শ্রেণি অনুযায়ী পরিবার পিছু মাসিক ১২,৫০০ টাকার নিচে আয় করলে নিম্নবিত্তের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর পরিবার পিছু মাসিক ১২,৫০০ থেকে ২১,৫০০ টাকা সীমার মধ্যে আয় করলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি হিসেবে বিচার করতে হবে। এবং এই আয়সীমা ধরে হিসাব করলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির আকার আরও বড়ই হবে।
এবার চলুন, একটু বিচার‑বিবেচনা করা যাক। এ ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নও ওঠে। যেমন, ২০২০ সালের হিসাবে মাসিক ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার আয়সীমা ধরে যদি দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশকে মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে বলতে হয় যে, আসলেই কি ওইসময় প্রায় ৪ কোটি মানুষের এমন আয় হতো–সেটি যৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া যায়? এ ক্ষেত্রে যদি আমরা করোনাভাইরাস মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উহ্যও রাখি, তবুও কিন্তু আর্থিক সীমা ধরে এ দেশের মধ্যবিত্তের এত বড় আকার কল্পনা করা কঠিন। কারণ, এই দেশের তৎকালীন বাজার পরিস্থিতি হিসাবে নিলে এই বিশাল আকার মেনে নিতে একটু কষ্টই হয়। তাছাড়া এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, এমন ধারণার পেছনে যে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রভাব ফেলেছে, সেটি হয়েছিল ঢাকা শহরের ১২টি এলাকায়। গবেষণার নমুনার সংখ্যা ছিল ৮০৯। অর্থাৎ, স্যাম্পল সাইজ আসলে ন্যূনতম মানের। এখন এ দিয়ে পুরো দেশের সার্বিক চিত্রের প্রতিনিধিত্ব আদৌ হয় কিনা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
আর করোনাভাইরাসের মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের ব্যাপারটি মাথায় নিলে বলতেই হয় যে, এ দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির আকার সাড়ে তিন কোটির কম‑বেশি, এটি মেনে নেওয়াটাও বেশ কঠিন। কারণ, মহামারির আঘাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে অনেককেই ঝরে পড়তে হয়েছে। অনেকে আবার টিকে আছে কোনোরকমে। আবার করোনা মহামারির পর থেকেই বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিও ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। করোনার অর্থনৈতিক আঘাতই এখনও সারেনি, তার ওপর আছে রুগ্ন অর্থনীতি। তাই প্রশ্ন ওঠেই যে, আসলেই কি দেশে কোটি কোটি মধ্যবিত্ত আছে?
এখন, এই প্রশ্নের মোক্ষম উত্তর দিতে পারত বিস্তৃত আকারে করা একটি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও জরিপ। কিন্তু সেসবেরই যে বড্ড অভাব! এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোও এ অভিযোগ করেছে। ২০১৬ সালের মার্চে ‘Emerging Middle Income Class in Bangladesh’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিল উন্নয়ন সংস্থা জাইকা বাংলাদেশ। তাতে একটি ডিসক্লেইমার দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন আয়ভিত্তিক জনসংখ্যা সংশ্লিষ্ট বাস্তবানুগ পরিসংখ্যানের যথেষ্ট অপ্রাপ্যতা রয়েছে। ফলে মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠীর হিসাব নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাজারের যে পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে, তা অনেকটাই অনুমাননির্ভর বা ধারণা মাত্র। খাঁটি পরিসংখ্যানের অভাব থাকায়, যেসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে কোনো পক্ষ যদি বাণিজ্যিক বা বিনিয়োগ‑সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা থেকে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ফল মেলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গবেষক দল দায়ী থাকবে না। বুঝে দেখুন তবে!
একই ধরনের মন্তব্য সম্প্রতি করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট’ও। গত নভেম্বরে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে সাময়িকীটি বলেছে, এশিয়ার অবস্থাপন্ন দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে এও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এ‑সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের অভাব প্রকট এবং তাদের ভাষায়, ‘অপ্রাপ্য’ বা ‘দুষ্প্রাপ্য’।
অর্থাৎ, বিদেশি সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিষয়ক বিশদ তথ্য ও পরিসংখ্যানের অভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করেই বলছে। তবে এ নিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা নানা সরকার বা এ সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাথাব্যথা খুব একটা নেই। আর এ কারণেই আমাদের দেশে এখনও মধ্যবিত্তের একটি জাতীয় সংজ্ঞাও সরকারি উদ্যোগে নির্ধারিত হয়নি। ফলে দেশের বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত নির্ণয়ের উপযুক্ত মানদণ্ডও নির্ধারিত হয়নি। তাই এ দেশে আদতে কে, কেন মধ্যবিত্ত–সেই প্রশ্নের সুরাহা করা খুবই কঠিন।
লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
আগামীকাল পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব: মধ্যবিত্ত কারা? কেন চেনা দেরকার?
[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]
আরও পড়ুন:
- দ্বিতীয় পর্ব: মধ্যবিত্ত কারা? কেন চেনা দরকার?
- তৃতীয় পর্ব: বৈশ্বিক মধ্যবিত্তের আকার কত, অবস্থা কী?
- চর্তুথ পর্ব: মধ্যবিত্তের কারণেই কি এশিয়ায় নজর সবার?
- পঞ্চম পর্ব: বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত কেমন আছে?


মধ্যবিত্ত কারা? কেন চেনা দরকার?
বৈশ্বিক মধ্যবিত্তের আকার কত, অবস্থা কী?
মধ্যবিত্তের কারণেই কি এশিয়ায় নজর সবার?
