কোরবানির ঈদের প্রথম দিন সকাল থেকে সারা দেশের আড়তগুলোতে চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে এনে বিক্রি করছেন সেখানে। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলেও আড়তে কাঁচা চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের।
দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। গরুর চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়া আকার ভেদে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।
কোরবানির ঈদের প্রথম দিন নাটোরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার আড়তে বিকেল থেকেই আসতে শুরু করেছে পশুর চামড়া। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলেও আড়তে কাঁচা চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের।
তবে বরিশালের আড়তগুলোতে চামড়া বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রি করছেন সরকার নির্ধারিত দামেই। এছাড়া সিন্ডিকেট না থাকায় চামড়ার ভালো দাম পেয়ে খুশি বিক্রেতারা।
এক চামড়া বিক্রেতা বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক ভালো। ক্রেতাও আছে বিক্রেতাও আছে।’
অপর এক বিক্রেতা বলেন, ‘ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে এ বছর আমরা চামড়া বিক্রি করতে পারছি।’
এদিকে, খুলনায় ভালো মানের গরুর চামড়াও ৪শ টাকার ওপরে দাম পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। ব্যাবসায়ীরা বলছেন, বেশির ভাগ চামড়ায় সমস্যা থাকায় সমান দাম দেওয়া যাচ্ছে না।
খুলনার এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘যে চামড়া ফুটো হয়ে যাবে সেই চামড়ার কোনো মূল্যই নেই। এরকম চামড়া আমাদের খুলনা অঞ্চলে বেশি।’
অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গতবারের থেকে এবার কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। এটা খুঁত, এটাই সমস্যা এসব বলে।’
১০ দিনের মধ্যে ঢাকার আড়তে চামড়া না পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও, রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে লোকসানে পড়তে পারেন তারা। এবার জেলায় সাড়ে ৪ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য প্রায় এক লাখ পিস। স্থানীয় আড়তে এত চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই বলে দাবি তাদের।
রাজশাহীর এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত দামে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না।’
এদিকে, চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থানে বিজিবি।
রাজশাহীর বিজিবির ব্যাটেলিয়ান ১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল হক বলেন, ‘কোরবানি পরবর্তীতে পশুর চামড়া যাতে পাচার না হয় এ ব্যাপারে বিজিবি সীমান্তে তীক্ষ্ণ নজরদারী বজায়ে রেখেছে।’
এছাড়া চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর, সিলেট, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার আড়তগুলোতেও শুরু হয়েছে চামড়া সংগ্রহ। কাঁচা চামড়া কেনার পর পরিষ্কার করে লবণ দেয়ার কাজে ব্যস্ত ট্যানারি শ্রমিকরা।



