চলতি বছরের জুন মাসে ৩৬৩টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা। জুন মাসে ধর্ষণের ৬৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৭টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৪টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। মে মাসে ধর্ষণের ৫৯টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৬টি ঘটনা ঘটেছিল। অন্যদিকে মে মাসে ২১ জন কিশোরী ও ২১ জন নারীসহ মোট ৪২ জন আত্মহত্যা করেছিল। আর জুন মাসে ২১ জন কিশোরী ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৪৭ জন আত্মহত্যা করে।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন জুন, ২০২৫–এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে এমএসএফ এই প্রতিবেদন তৈরি করে। আজ গণমাধ্যমে এ প্রতিবেদন পাঠায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে ধর্ষণের শিকার ৬৩ জনের মধ্যে ১৯ জন শিশু, ২৩ জন কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ জন শিশু, ৭ জন কিশোরী ও ৮ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কিশোরী ও ৩ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৭টি, যৌন হয়রানি ৩৯টি, শারীরিক নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা ঘটেছে।
জুন মাসে অপহরণের শিকার হয়েছে ১ জন শিশু, ২ জন কিশোরী ও ১ জন নারী, অপরদিকে ৩ জন শিশু, ৩ জন কিশোরী ও ৩ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া জুন মাসে ৩ জন শিশু, ৪ জন কিশোরী ও ৭ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৯২ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ৫৫ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। এ ছাড়া জুন মাসে ২টি শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ও একটি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা সমাজপতিরা আপস করেছেন, যা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সিদ্ধান্ত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসের ধারায় জুন মাসেও একইভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতারোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নারীরা শিক্ষাঙ্গনে, বাসে, ট্রেনে, অটোবাইকে এমনকি নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। যা কখনই কাম্য হতে পারে না।


মে মাসে ৩৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে: এমএসএফ
