চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী পদ্মা নদী থেকে শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবকের অ্যাসিডে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শফিকুল ইসলাম কীভাবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্যাতনে মারা গেছেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর এলাকা থেকে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর-হঠাৎপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু ও শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া।
বিজিবি ও পুলিশ জানায়, সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় শফিকুলের মরদেহ দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, শফিকুল ইসলাম পদ্মা নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন শফিকুল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ও সোহেল রানা নামের আরেক বাংলাদেশির সঙ্গে নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তারা। পরে শনিবার শফিকুলের মরদেহ পাওয়া যায়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন সোহেল রানা। তিনি শিবগঞ্জের তারাপুর ঠুটাপাড়ার গোলাম মর্তুজার ছেলে।
নিহত শফিকুলের স্ত্রীর ভাই ও স্থানীয় মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহা. সমির উদ্দীন বলেন, ‘নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে শফিকুল ইসলামের। তার পুরো শরীরের অনেকগুলো চিহ্ন রয়েছে। এগুলো অ্যাসিডে দগ্ধ হয়ে পোড়া ফোসকার মতো। এছাড়াও তার অনেকগুলো দাঁত ভাঙা ছিল।’
বিজিবি অধিনায়ক ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি একেবারেই সীমান্ত এলাকায়। তাই পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বিজিবি সদস্যরা।’
অন্যদিকে ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা শফিকুলের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’



