আইফোন ১৭ সিরিজের চারটি মডেলের মধ্যে চাহিদার দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ‘আইফোন এয়ার’ মডেলটি। চাহিদা কম থাকায় মডেলটির উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে অ্যাপল। জাপানের অর্থবিষয়ক দৈনিক নিক্কেই-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
নিক্কেই’র সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে আইফোন ১৭ সিরিজের মোট উৎপাদনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছিল আইফোন এয়ার। পড়তি চাহিদার কারণে এয়ার মডেলটির উৎপাদন, নিক্কেই’র প্রতিবেদন বলছে, প্রায় বন্ধ হওয়ার যোগাড়।
এ প্রসঙ্গে একজন সাপ্লাই চেন ম্যানেজার নিক্কেই-কে জানিয়েছেন যে, নভেম্বরের পর থেকে আইফোন এয়ার-এর উৎপাদন অর্ডার সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১০ শতাংশেরও কম হবে।
আইফোন এয়ার-এর চাহিদা যে কম তা বোঝার আরেকটি উপায় হচ্ছে, অ্যাপলের ওয়েবসাইটে অর্ডার করলে ফোনটি তাৎক্ষণিকভাবে শিপিংয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানা যায়। অথচ আইফোন ১৭ প্রো অর্ডার করলে শিপিং টাইম দেখায় ১-২ সপ্তাহ, যেটা আইফোন ১৭ বেজ মডেলের ক্ষেত্রে ২-৩ সপ্তাহ।
এ থেকেই বোঝা যায় যে, অন্য মডেলের তুলনায় এয়ার মডেলটির বিক্রি কম, ফলে শেলফেই অবিক্রিত রয়ে গেছে এর অনেক ইউনিট। আর তাই অর্ডার পেলে অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবেই এয়ার মডেলটি সরবরাহ করতে পারছে।
নিক্কেই’র প্রতিবেদন বলছে, আইফোন এয়ার-এর উৎপাদন কমিয়ে আনার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে আইফোন ১৭ সিরিজের বেজ ও প্রো মডেল দুটির ব্যাপক চাহিদা। সম্প্রতি এও জানা গেছে, আমেরিকা ও চীনের বাজারে প্রথম ১০ দিনের বিক্রিতে ১৭ সিরিজের বেজ মডেলটি সবার চেয়ে এগিয়ে। এমনকি প্রথম ১০ দিনের বিক্রির তথ্য বলছে, আইফোন ১৬ সিরিজকেও পেছনে ফেলেছে ১৭-এর বেজ মডেল।
গত মাসে আইফোন ১৭ সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণীয় মডেল হিসেবে বাজারে আসে আইফোন এয়ার। মডেলটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের রিভিউ-ও বেশ ভালো। কিন্তু তা স্বত্বেও এয়ার মডেলটি’র চাহিদা ও বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ার কারণ কী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই অন্য একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আর তা হচ্ছে, আদৌ কী একটি আলট্রা-স্লিম বা আলট্রা-থিন (অতি পাতলা) ডিজাইনের আইফোন বাজারে আনার প্রয়োজন ছিল? আইফোনপ্রেমীদের মাঝে পাতলা ডিজাইনের একটি ফোনের চাহিদা কতটা ছিল? এই প্রশ্নগুলোর মাঝেই এয়ার মডেলটির প্রত্যাশিত চাহিদা না থাকার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আইফোন এয়ার-এর তুলনামূলক কম ব্যাটারি লাইফ এবং এর ক্যামেরার সীমিত সক্ষমতার কারণে আইফোন ক্রেতারা অন্য মডেলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। উল্লেখ্য, ১৭ সিরিজের প্রো মডেলে ৩টি এবং বেজ মডেলে ২টি করে ব্যাক ক্যামেরা রয়েছে, যেখানে এয়ার মডেলে আছে মাত্র ১টি ক্যামেরা। .
ব্যাটারি ব্যাকআপের দিক থেকেও এয়ার মডেলটি অন্য মডেলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে। ফলে দেখতে চমৎকার হলেও পাতলা ডিজাইনের আইফোন এয়ার গ্রাহকদের মাঝে যথেষ্ট চাহিদা তৈরি করতে পারছে না। এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, উচ্চমূল্যের আইফোন কেনার ক্ষেত্রে ডিজাইনের চেয়েও ক্যামেরা এবং ব্যাটারি ব্যাকআপের মতো বিষয়গুলোকে তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন গ্রাহকরা।
প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টি কি আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি অ্যাপল? ভবিষ্যতে আইফোন ফোল্ড আনার আগে এই প্রশ্নটি-ই অ্যাপল কর্তারা নিজেদেরকে বারবার করবেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: নিক্কেই, ম্যাশেবল


আইফোন ১৭ ইভেন্টে এল নতুন যেসব অ্যাপল পণ্য
বিক্রিতে এগিয়ে আইফোন ১৭ বেজ মডেল
