বিএনপি-জামায়াতের বাইরে আলাদা জোট গড়তে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ ও এবি পার্টিসহ ৯টি দল। যা চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দলগুলো। গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা দলগুলোর সঙ্গে থেকে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চায় এনসিপি ও এবি পার্টি। তবে, নতুন জোট গঠনে এনসিপিকে অপরিপক্ক ও বড় বাধা হিসেবে দেখছে গণঅধিকার পরিষদ।
পাঁচ আগস্ট আওয়ামী স্বৈরশাসনের পতনের থেকেই রাজনীতির মাঠে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াত। ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট ভারী করতে দেখা গেছে দল দুটিকে। বিএনপি জোটে আছে যুগপৎ আন্দোলনের অধিকাংশ শরীক দল। অন্যদিকে, জামায়াত জোটে বেশ কয়েকটি ইসলামী দল।
তবে, এই দুই রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে তৃতীয় নতুন জোট গঠনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে গণঅধিকার পরষিদ, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি ও প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দল। শুধু নির্বাচন নয় জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তাবায়কেই প্রাধান্য দিচ্ছে দলগুলো।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা যেটি চিন্তা করেছি, বিএনপি ও জামায়াতের জোটের যে আলোচনা হচ্ছে, এই জোটের বাইরে নতুন বন্দোবস্ত রাজনীতি নিয়ে যারা কাজ করছে; তাদের নিয়ে একটি জোট করা যায় কি না। প্রথমত এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে কিছু আলোচনা করেছি। গণতন্ত্র মঞ্চের যে ছয়টি দল আছে সেগুলোর সাথেও আলোচনা করেছি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের যে আকাঙক্ষা নতুন বাংলাদেশ করব, যেখানে দুর্নীতি কম থাকবে। যেখানে দেশে মানুষ অধিকার ফিরে পাবে সেভাবে চেষ্টা করছি।
তবে, নতুন জোট গঠনে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির আচরণ অপরিপক্ক বলে মনে করছে গণঅধিকার পরিষদ। এর আগে এনসিপিকে নিয়ে জোট গঠনে দলটি বেশ আগ্রহ দেখালেও বর্তমান কর্মকাণ্ডে অনীহা দেখাচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, এনসিপি নতুন একটি দল। এখন পর্যন্ত তারা নানা বিতর্কে জর্জরিত। তারা অপরিপক্ক আচরণ করছে, আমার মনে হয় না তারা কোনো জোট করলে সেই জোট ভালো ফলাফল করতে পারবে।
বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে নতুন এই জোট কতটা শক্তিশালী হবে তা নির্ভর করছে দলগুলোর আন্তঃসম্পর্কের ওপর। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের পর জোটের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানায় দলগুলো।



