এশিয়ার সংগীত জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নতুন এক গার্ল গ্রুপ, নাম ‘নো না’। দক্ষিণ কোরিয়ার নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকেই উঠে এলো নতুন তারকারা; যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে ব্যাপক আলোড়ন। ইন্দোনেশিয়ার চার সদস্যের এ ব্যান্ডটিকে বলা হচ্ছে, এশিয়ার নতুন আবেদনময়ী ডান্স গ্রুপও।
তারা সবার নজরে আসেন চলতি বছরের শুরুতেই। তাদের নতুন গান ‘ওয়ার্ক’ প্রকাশের পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে মাত্র দুই মাসে একটি মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ৯.৫ মিলিয়নেরও বেশি শ্রোতা অর্জন করে। একই সঙ্গে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মেও সমান জনপ্রিয়তা পায় গানটি।
গানের সঙ্গে থাকা শক্তিশালী কোরিওগ্রাফি অনলাইনে তৈরি করে ডান্স চ্যালেঞ্জ ট্রেন্ড। বিশেষ করে একজন সদস্যের ব্যাকবেন্ড পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ লিখেছেন, আমি জানতামই না ইন্দোনেশিয়ান পপ এমনভাবে হচ্ছে—যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। আবার কেউ বলেন, এরা কারা, এতটা দারুণ!
বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে এশিয়ান গ্রুপ নতুন নয়—কোরিয়ান পপ গ্রুপগুলো ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পীরা এখনও সেই পরিসরে বড়ভাবে জায়গা করতে পারেননি। সেই জায়গাতেই নতুন চমক হয়ে উঠছে নো না।

সম্প্রতি জাপানের একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করে তারা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পেয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে গ্রুপের চার সদস্য জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু সংগীত নয়, নিজেদের দেশের সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, আর সেই পরিচয়ও তারা গর্বের সঙ্গে বহন করছেন। তাদের পোশাকে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী বাটিকের সূক্ষ্ম ছোঁয়া।
তাদের গানগুলো মূলত ইংরেজি ভাষায় হলেও সেখানে ব্যবহার করা হয় ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, যা গানকে দিয়েছে আলাদা এক স্বাদ।
এক সদস্য বলেন, ‘আমরা এমন কিছু তৈরি করতে চেয়েছি যা একদিকে পরিচিত মনে হবে, আবার অন্যদিকে নিজেদের সংস্কৃতির পরিচয়ও বহন করবে।’
দুই থেকে তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে আত্মপ্রকাশ করে নো না। তাদের নামটিও এসেছে ইন্দোনেশিয়ান ভাষা থেকে, যার অর্থ মিস।
তাদের মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায় ইন্দোনেশিয়ার সবুজ ধানক্ষেত, ঝরনা এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, যা দর্শকদের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
নিজেদেরকে তারা পরিচয় দেন দ্বীপের মেয়ে হিসেবে—যা ইন্দোনেশিয়ার হাজার হাজার দ্বীপের সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে প্রতিফলিত করে।
বিশ্বজুড়ে এশিয়ান বিনোদনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। সেই ঢেউয়ের ওপর ভর করেই এগোচ্ছে নো না।
তাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এখন একটাই, নিজ দেশে ইন্দোনেশিয়ায় একটি বিশাল কনসার্ট করা, যেখানে তারা সরাসরি দর্শকদের সামনে তাদের গল্প বলতে চান সংগীতের মাধ্যমে।
সূত্র: সিএনএন


বাংলাদেশে গম রপ্তানিতে দুর্নীতি, মুখ খুললেন নুসরাত
