ঘটনা গেল শুক্রবারের (৪ আগস্ট); ‘শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিন’ নাটকের শুটিং সেটে। রাজধানীর উত্তরার আনন্দবাড়ি শুটিং হাউজে চমকের কলটাইম ছিল সকাল ১০টায়। জানা যায়, তিনি হাজির হন সকাল সাড়ে ১১টায়। এর আগে সহকারী পরিচালক সাড়ে নয়টায় ফোন দেন। নাটকের অভিনেতা আরশ সাড়ে দশটায় ফোন দেন। চমক হাজির হয়ে জানতে চান, আরশ কেন ফোন দিয়েছেন, তিনি আর্টিস্ট কো-অর্ডিনেটর কিনা? এরপর থেকে কারণে-অকারণে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন চমক। প্রশংসা করলেও খেপে যেতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দৃশ্য শেষ হওয়ার পর প্রোডাকশন ম্যানেজার চমককে বলেন, ‘আপা, শটটা খুব সুন্দর হয়েছে’। আর তাতে যেন আরও মেজাজ হারান চমক। এরপর নাটকের পরিচালক আদিব হাসান তাকে বলেন, ‘আপনি যেভাবে রিঅ্যাক্ট করছেন; এ রকম কোনও ঘটনাই এখানে ঘটেনি। আপনি কেন তাদের ধমকাচ্ছেন?’
এতে চমক শুটিং করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ সময় নির্মাতার সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র অভিনয়শিল্পী মাসুম বাশারও।
ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশে খবর দেন অভিনেত্রী।সুরহা না হওয়ায় শুটিং স্পট থেকে চলে আসেন তিনি।
এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন চমক। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বললেন, ‘আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের অভিনয় শিল্পী সংঘে অভিযোগ দিয়েছি। এখনও কোনো বিচার পাইনি। সেখান থেকে আমাকেও কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। যখন কোনও উঠতি নায়িকা ভালো করতে থাকে, আশপাশের কারও কোনও চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তখন তার বিরুদ্ধে কিছু লোক লেগে যায়। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে অনেক বড় ষড়যন্ত্র হচ্ছে!’
এ পর্যায়ে তিনি আরশ খানকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘আরশ আমার ভালো বন্ধু ছিল। একসঙ্গে কাজ করছিলাম। আমাদের ভালো জুটি হতে যাচ্ছিলাম। একটা সময় সে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু আশা করে। আমি এমনটা কখনোই তার কাছে আশা করিনি। যে কারণে ষড়যন্ত্র করছে। আর আমি নাকি আমাদের সিনিয়র অভিনেতা মাসুম বাশার আংকেলকে ধমক দিয়েছি, পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছি। তাহলে পুলিশ যখন এলো, তখন পুলিশকে কেন বললেন না, তার সঙ্গে আমি এমন আচরণ করেছি।’
এ নিয়ে আরশ জানালেন ভিন্ন কথা। এ অভিনেতা বলেন, ‘আমি সকালে উঠে জিমে যাই। এর মধ্যে সাড়ে নয়টার দিকে পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়। তাকে সবকিছু রেডি করতে বলি। পরে সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পরিচালক ফোন দিয়ে বলেন, চমক ফোন ধরছেন না। আমি যেন একটা ফোন দিই। সে কারণেই আমি তাকে ফোন দিয়েছি। সে ফোন ধরে না। এখন আমি কি তাকে ফোন দিতে পারি না। আমাদের একসঙ্গে শুটিং। সে এলেই তো আমাদের দৃশ্যে শুটিং করতে পারব। এখানে অন্যায়টা কী?’
আরশ দাবি করে বলেন, ‘'চমক আমার সামনে অভিনয়শিল্পী সংঘে ফোন দিয়ে বলে তাকে আটকায়ে রাখছে। টাকা না দিলে বের হতে দেবে না। কথা বলা শেষ হলে আমি চমককে বলি, 'এটা কী বলতেছ? কারণ, তেমন কিছু ঘটেনি।' তখন সে আমাকে এ নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করে। আমি আবারও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। সবার সঙ্গে কথা হয়। শুটিং করতে যাব। এর মধ্যে দেখি পুলিশ। পুলিশ দেখে শুটিংয়ের সবাই অবাক হয়ে যান। পরে জানা যায়, পুলিশ এনেছেন চমক।''
আরশের ভাষ্য, ''শুটিংয়ের মধ্যে পুলিশ আসায় সিনিয়র অভিনেতা মাসুম বাশার কিছুটা বিরক্ত হন। তিনি বলেন, 'পুলিশ আসার মতো তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এতে তাকে ছোট করা হয়েছে।''
আরশ বলেন, ‘'এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে চমক রেগে চিৎকার দিয়ে বলেন, 'হাউ ডেয়ার ইউ...।' তখন মাসুম বাশার বলতে থাকেন, 'তুমি আমার সঙ্গে কেন জোরে কথা বলছ।' আমি আবার তাদের হাত ধরে চুপ করাই। আংকেল দেখি কাঁপছেন।''
এদিকে, নাটকটির নির্মাতা আদিব হাসানের দাবি, শুটিংয়ে সময়মতো চমকের না আসা এবং এসে একটি দৃশ্য করে শুটিং ফেলে চলে যাওয়ায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিষয়টি সমাধানের জন্য যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে টেলিভিশন নাটক সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠন। এ কারণে আপাতত সংগঠনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলছেন না।


শুটিং সেটে পুলিশ ডেকে কাঁদলেন অভিনেত্রী, দিলেন অভিযোগ
এবার ছেলের নাম নিয়ে মুখ খুললেন পরী মণি
কলকাতার সায়ন্তিকার দাবি, জায়েদ বললেন 'না'
হঠাৎ কেন জাজের আজিজের বাসায় পরী মণি!
ডায়েট করতে গিয়ে হাসপাতালে তিশা!
