নিজের দোষ আড়াল করতেই বন্ধু আরশের প্রতি 'যৌন হয়রানি'র অভিযোগ এনেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে টেলিভিশনের তিন অভিভাবক সংগঠন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব), ডিরেক্টরস গিল্ড ও অভিনয় শিল্পী সংঘ। দফায় দফায় সালিশের পর চমকের চারটি অপরাধ শনাক্ত করেছে তারা। সে অনুযায়ী তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি ইন্ডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে জানিয়েছে অভিনয় শিল্পী সংঘ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ফখরুল বাসার মাসুম ও নির্মাতা আদিফ হাসানসহ ইউনিটের সবার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা অভিনেত্রী চমকের ভুল ছিল এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে অভিনেতা আরশ খানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়। সবকিছু বিবেচনা করে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়েছে:
১. অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক ক্ষতিগ্রস্ত নাটকের প্রযোজক, পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ফখরুল বাশার মাসুমসহ সকলের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চাইবেন।
২. 'শ্বশুরবাড়ির প্রথম দিন' নাটকটি নির্মাণ সম্পন্ন করতে বাকি যে অর্থের প্রয়োজন হবে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে চমক প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।
৩. অভিনেতা আরশ খান ও পরিচালক আদিফ হাসানের বিরুদ্ধে চমক থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তা অনতিবিলম্বে নিষ্ক্রিয় করবার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৪. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, যদি ঘটে তবে সংগঠন কর্তৃক যে কোনো শাস্তি গ্রহণ করতে তিনি বাধ্য থাকবেন বলে লিখিত ভাবে অঙ্গীকার করবেন। আগামী ৬ মাস তিনি সকল সংগঠনের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ যেন না আসে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন।
৫. যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অনলাইন ইন্টারভিউ ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ কোনো ঘটনার সমাধান নিতে পারে না বরং যে কোনো পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে সেহেতু এখন থেকে আন্তঃসংগঠনের কার্য নির্বাহী কমিটির এবং সকল সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্য যেকোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে যার যার সংশ্লিষ্ট সংগঠনে অভিযোগ করবেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ইন্টারভিউ এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো প্রকার পোস্ট করতে পারবেন না।
৬. শুটিং পরিবেশ সুষ্ঠু সুন্দর রাখার লক্ষ্যে কলাকুশলীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কেউ যদি কোনো প্রকার অসদাচরণ, বিশৃঙ্খলা, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটা গত ৪ আগস্টে; ‘শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিন’ নাটকের শুটিং সেটে। রাজধানীর উত্তরার আনন্দবাড়ি শুটিং হাউজে চমকের কলটাইম ছিল সকাল ১০টায়। জানা যায়, তিনি হাজির হন সকাল সাড়ে ১১টায়। এর আগে সহকারী পরিচালক সাড়ে নয়টায় ফোন দেন। নাটকের অভিনেতা আরশ সাড়ে দশটায় ফোন দেন। চমক হাজির হয়ে জানতে চান, আরশ কেন ফোন দিয়েছেন, তিনি আর্টিস্ট কো-অর্ডিনেটর কিনা? এরপর থেকে কারণে-অকারণে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন চমক। প্রশংসা করলেও খেপে যেতে থাকেন। তিনি জ্যেষ্ঠ শিল্পী মাসুম বাশারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং পুলিশ ডেকে তাকে হত্যার হুমকিদাতা বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে চমক দাবি করেন আরশ তার কাছ থেকে বিশেষ কিছু দাবি করতেন। এ কারণেই হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি।
গতকালকে মনোয়ার হোসেন পাঠানের সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির, কার্যনির্বাহী সদস্য বাবুল আহমেদ, ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি অনন্ত হীরা, সহসভাপতি আশরাফুল আলম রন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক তারিক মুহাম্মদ হাসান, দপ্তর সম্পাদক সাঈদ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা জুয়েল, কার্য নির্বাহী সদস্য ফিরোজ আলম দুলাল, অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সহসভাপতি আনিসুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজনীন হাসান চুমকি, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রাণ রায়, দপ্তর সম্পাদক শেখ মেরাজুল ইসলাম। ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাহবুব। অভিনয়শিল্পী তুতিয়া ইয়াসমিন পাপিয়া, প্রযোজনা ব্যবস্থাপক মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা


শুটিং সেটে পুলিশ ডেকে কাঁদলেন অভিনেত্রী, দিলেন অভিযোগ
আরশের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ চমকের
