বিশ্বজুড়ে বিদায়ী ২০২৪ সালে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে গেল। বছরটিতে বাংলাদেশসহ ৬৪টির অধিক দেশের প্রায় ৪০০ কোটির বেশি মানুষ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের সরকার নির্বাচন করে। এর আগে কখনো একই বছরে এতগুলো দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিপুলসংখ্যক দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রথম নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না, কাজ করেছিল কিছুটা উদ্বেগও!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বিশ্বে অনেক ইতিবাচক কাজ হচ্ছে। তবে নির্বাচনে এর নেতিবাচক ব্যবহারের শঙ্কা থেকে যায়। ইতোমধ্যে এ ধরনের কার্যক্রমের নজিরও স্থাপন হয়েছে! তাই চিন্তা বাড়ছে। এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), মিথ্যা, পক্ষপাতমূলক, অপপ্রচারমূলক, কুৎসা ও মানহানিকর কনটেন্ট (যেমন‑এডিট ভিডিও, অডিও, বানোয়াট খবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল, এমনকি সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব বিস্তার সম্ভব!
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে?’– শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চব্বিশের নির্বাচনে এইআই ব্যবহারে অন্তত একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক) বানানোর বিষয় উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যেই গণঅভ্যুত্থানে নতুন সরকারের পতন হয়েছে। আর রোমানিয়ায় পাঁচ মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় আয়োজন করতে হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট। বাংলাদেশ আর রোমানিয়ার বাস্তবতা এক নয়– সেখানে নির্বাচনী প্রচারে এআইয়ের ব্যবহার প্রশ্নে পুরো নির্বাচনই বাতিল বলে ঘোষণা দেন সাংবিধানিক আদালত। তাই নতুন করে ভোট হয়। রোমানিয়ায় প্রথম দফায় নির্বাচন হয় ৪ মে। তা বাতিল হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ১৮ মে। অভিযোগ ছিল, এইআইনির্ভর কনটেন্ট ও ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া।
২০২৪ সালে আরও কিছু দেশের নির্বাচনে এআইনির্ভর প্রচার এবং এর কারণে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব পড়ার বিষয় উঠে এসেছে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে। বাংলাদেশের আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টি নতুন ভাবনার খোরাক জোগাতে পারে।
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে এআই ব্যবহার করে আসলে কী হয়েছিল
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে একজনের কথা উল্লেখ করা হলেও বাংলাদেশে চব্বিশের ৭ জানুয়ারির ভোটকে ঘিরে অন্তত দুই এমপি প্রার্থীর বেলায় এআইনির্ভর ভুয়া ভিডিও দিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর বেলায় এআইনির্ভর মিথ্যা ভিডিওর উল্লেখ করেছে। তবে বিস্তারিত উল্লেখ করেনি।
অনলাইন যাচাই ও মিডিয়া গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, তিনি (দ্য ইকোনমিস্টে উল্লিখিত) ছিলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গাইবান্ধা‑১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার। ঠিক ভোটের দিন প্রচারিত (৭ জানুয়ারি ২০২৪) ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম এবং (জাতীয় পার্টির প্রার্থী) শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভাইকে সমর্থন করলাম। আপনারা সবাই দলে দলে কেন্দ্রে যাবেন এবং শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভাইয়ের লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন। সবাই আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
ডিসমিসল্যাব ভিডিওটি যাচাই করে দেখতে পায়, সেখানে কথার সঙ্গে ঠোঁটের অসামঞ্জস্যতা আছে। নাহিদ নিগারের আসল কণ্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গির সঙ্গেও কোনো মিল পাওয়া যায়নি ভুয়া ভিডিওটির। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে ভুয়া ভিডিওটি বানানোর ক্ষেত্রে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নেওয়া হয়েছে এই প্রার্থীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে।
অবশ্য, ফেসবুকে যে এমন একটি ভুয়া ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল নাহিদ নিগারের দুটি পেজ থেকে।
অন্যদিকে, বুম বাংলাদেশ নামের একটি ওয়েবসাইট সূত্র জানা গেছে, আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার ছাড়াও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া‑২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বিউটি বেগম একই রকম ঘটনার শিকার হন। তাঁর চেহারা দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিওটি (ডিপফেইক) ভোটের আগের দিন পোস্ট করা হয় ‘বর্ণিল বগুড়া-Bornil Bogura’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে।
ওই পোস্টে বলা হয়, ‘আমি বিউটি বেগম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম। ...আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম এবং মহাজোট প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ভাইকে সমর্থন দিলাম। আপনারা সবাই দলে দলে কেন্দ্রে যাবেন এবং লাঙ্গল মার্কার বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। সবাই আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আপনারা দুঃখ পাবেন না। নেত্রীর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের কারণেই সরে দাঁড়িয়েছি। তিনি এর প্রতিদান দেবেন নিশ্চয়ই। আপনাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।’
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্ট দুটির দাবি সঠিক নয়। উক্ত দুই আসন; অর্থাৎ, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। বরং ওই দুই প্রার্থীর স্থিরচিত্র ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ‘ডিপফেইক’ ভিডিও দুটি তৈরি করে তা প্রচার করা হয়েছে। মূলত, বিউটি বেগমের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ২০২৩ সালের ১৯ মে পোস্টকৃত একটি ছবি ব্যবহার করে এআই টুলসের সাহায্যে আলোচ্য ডিপফেইক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। (আবদুল্লাহ নাহিদ নিগারের বিষয়ে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্ট চেক আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বুম বাংলাদেশের প্রতিবেদনে ভাষ্য এখানে উল্লেখ করা হলো না।)
বিশ্বজুড়ে নির্বাচনে এআইয়ের ব্যবহার কতটা নেতিবাচক ছিল
দ্য ইকোনমিস্টের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈশ্বিক নির্বাচনী ঢেউকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের প্রথম নির্বাচন হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তবে, এই ‘এআই যুগ’ আসলে কী বোঝায়– তা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। এআই কি বিপুল পরিমাণ ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক) এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল-ভিত্তিক (কনটেন্ট) স্প্যাম তৈরি করবে? নাকি এটি রাজনীতিবিদদের ভাষাভিত্তিক বিভক্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং ভোটারদের জন্য তথ্যের নতুন উৎস আবিষ্কার করতে সহায়ক হবে?
ভোট গ্রহণ শেষ, গণনা সম্পন্ন এবং নতুন ও পুরোনো রাজনীতিবিদরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তখন দেখা গেছে–এআইনির্ভর প্রচারের ব্যাপক ব্যবহারের পূর্বাভাস সত্যি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনফরেমেশন এনভায়ারনমেন্টের (আইপিআইই) প্রতিনিধিত্বকারী একাডেমিকদের একটি বিস্তৃত নির্বাচনী ডেটাবেজ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পাঁচটির মধ্যে চারটি নির্বাচনে এআই ব্যবহৃত হয়েছে।
এই প্যানেলটি জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণকারী আইপিসিসির অনুকরণে গঠিত হয়েছে। এটি আমেরিকা থেকে শুরু করে ভারত, ব্রিটেন ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে এআই ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে। যে কয়েকটি গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রযুক্তির তেমন প্রভাব পড়েনি, সেগুলো সাধারণত ছোট আকারের ছিল। যেমন; বোতসোয়ানা, মঙ্গোলিয়া ও টোগো—এসব দেশের জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি হলেও এআইয়ের ব্যবহার সেখানে দেখা যায়নি।
এআই প্রযুক্তির এই প্রভাব সাধারণভাবে সহায়ক না হয়ে বরং ক্ষতিকর ছিল। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এআইয়ের বেশির ভাগ ব্যবহার হয়েছে কনটেন্ট তৈরি করতে, যার উৎস অনেক সময় অজানা থেকে গেছে। প্রায় ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করতে পারেনি আইপিআইই। যা শনাক্ত করা গেছে, তার মধ্যে প্রায় সমান অংশ ছিল বিদেশি হস্তক্ষেপকারীদের (২০ শতাংশ) এবং দেশীয় প্রযুক্তি-দক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর (২৫ শতাংশ)।
কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনী কাজে এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইকোনমিস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে পরিচয় গোপন রাখা অনেক সময় স্বাভাবিক ঘটনা। যেমন: কোনো রাজনীতিবিদের ভাষণ সংখ্যালঘু ভাষায় এআই ব্যবহার করে ডাব করা হলে তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্মান অর্জন করতে পারে। কিন্তু ভিডিওটি যদি কোনো কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের লোগোসহ প্রকাশিত হয়, তাহলে সেটি কম আকর্ষণীয় হতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে সরকার নিজেরাই এআই ব্যবহার করেছে, তা সব সময়ই ভালো উদ্দেশ্যে হয়েছে—যেমন মাদাগাসকারে এআই ব্যবহার করে ভোটার শনাক্ত করতে সহায়তা করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে নিবন্ধে বলা হয়েছে, যেমন মৃত জনপ্রিয় ভারতীয় রাজনীতিবিদদের এআই দিয়ে ‘পুনর্জীবিত’ করে সমর্থন আদায়, বা বাংলাদেশের এক প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ভুয়া ভিডিও তৈরি—এই ধরনের ঘটনাই মোট এআই ব্যবহারের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জুড়ে ছিল। বিদেশি হস্তক্ষেপকারীরা ছিল পুরোপুরি শত্রুভাবাপন্ন। উদাহরণস্বরূপ, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সাড়ে ৭ লাখ নাগরিক রাশিয়া ও চীনা অপারেটরদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
এআইনির্ভর প্রচারের প্রভাব প্রশ্নে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে রোমানিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গ এসেছে। বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে— যেমন রোমানিয়ায়। যেখানে সংবিধানিক আদালত জানিয়েছেন যে, এআই ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল এবং এর ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় করতে হয়েছে।
কী করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
আগামী নির্বাচন ঘিরে এআইনির্ভর নেতিবাচক কার্যক্রমের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি নীতিমালায় বিষয়টি আনা হয়েছে– নির্বাচনে নিষিদ্ধি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এইআই) নির্ভর প্রচার। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নতুন বিধান যুক্ত করে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে, যা বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে কমিশন সভায়। এআইয়ের অপব্যবহার রোধে কিছু বিধান রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
অবশ্য নির্বাচনী দৌড়ে থাকা এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ আরও কিছু দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে– এমনটা বললে অত্যুক্তি হবে না। রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির মতামত নিয়ে এই আচরণ বিধিমালার তৈরি করে ইসি।
কারণ, গত ২৯ জুন নির্বাচন কমিশন যে খসড়া আচরণ বিধিমালা প্রকাশ করেছিল, সেখানে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই খসড়ায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কথা উল্লেখ ছিল।
আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ডিপফেইক, মিথ্যা, পক্ষপাতমূলক, অপপ্রচারমূলক, কুৎসা ও মানহানিকর কনটেন্ট (যেমন, এডিট ভিডিও, অডিও, বানোয়াট খবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। এমনকি প্রার্থী ও দলীয় নেতাদের চেহারা বিকৃত করে কোনো প্রচার চালানো যাবে না। কেউ এমন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা বা ডিজিটাল আইনে মামলা হবে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত করা নীতিমালা ইঙ্গিত দিচ্ছে– এআইনির্ভর প্রচারের মধ্যদিয়ে নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না বাংলাদেশে। তবে কাজীর গরু শুধু কেতাবে থাকবে, নাকি গোয়ালেও দেখা মিলবে–তা সময়ই বলে দেবে!



