ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আড়ালে লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিরাপত্তা নয়, লেবাননকে কৌশলগতভাবে বিচ্ছিন্ন করে সীমান্তের বাস্তবতা বদলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তেল আবিবের। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা থেকে কার্যত দূরে রয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায়, লেবাননের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছে তেল আবিব।
বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলছেন, কূটনৈতিক চাপ বাড়লেও ইসরায়েলের নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের একটি বড় অংশ এখনো বিশ্বাস করে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক চাপই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
লেবাননের পাশাপাশি গাজায়ও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অভাব তেল আবিবকে আরও সাহসী করে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষক আলেক্সান্দ্রু হুডিস্তেওর মতে, দক্ষিণ লেবাননে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোর ওপর একটি বাফার জোন তৈরির লক্ষ্যেও অভিযান জোরদার করা হতে পারে। এ জন্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক চাপ কার্যকর না হলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। আর এর প্রভাব শুধু সীমান্ত অঞ্চলে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ, আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ বাসিন্দা।



