নতুন পে স্কেলে ৭ বড় চমক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

মূল বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দারুণ খবর, তাই না? একটু থামুন, এখানেই আছে চমক! নতুন পে স্কেলে যত ওপরে গ্রেড, তত কমবে ইনক্রিমেন্টের হার। এর সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ বেশ কিছু ভাতাতেও আসছে বড় পরিবর্তন।

তাহলে প্রশ্ন হলো—এতদিনের বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন পে স্কেলে আসলে কার লাভ বেশি? চলুন, সহজ ভাষায় পুরো হিসাবটা বুঝে নেওয়া যাক।

ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তন

বর্তমান বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেড নির্বিশেষে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। তবে নতুন পে স্কেলে এই নিয়ম বদলে যাচ্ছে।

২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত থাকছে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট। কিন্তু এরপর থেকেই হার কমতে শুরু করবে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ। চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আর দ্বিতীয় গ্রেডে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অর্থাৎ সহজ করে বললে—নিচের গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার বেশি, আর উচ্চপদে যত উঠবেন, ইনক্রিমেন্টের শতাংশ তত কমবে।

একই নীতি প্রযোজ্য হবে সশস্ত্র বাহিনীতেও। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ। মেজরে ৪ শতাংশ। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থার মূল দর্শনটা হলো—বেতন যত বেশি, অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধির শতাংশ তত কম।

বাড়িভাড়ায় কম হার

এবার আসি বাড়িভাড়া ভাতায়। এখানেও আছে বেশ বড় পরিবর্তন। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া পাওয়া যায় মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ।
নতুন পে স্কেলে সেটা কমে হবে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ।

শুনে মনে হচ্ছে বাড়িভাড়া কমে যাচ্ছে। কিন্তু আসল বিষয়টা হলো—বাড়িভাড়ার শতাংশ কমলেও মূল বেতন অনেক বেশি বাড়ছে। ফলে শতাংশের হিসাবে কম হলেও, টাকার অঙ্কে বাড়িভাড়া অনেকেরই বাড়তে পারে।

ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমান হার ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হবে।

আর দেশের অন্যান্য এলাকায় বর্তমান ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ থেকে নতুন হার হবে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ—বাড়িভাড়ার হার কমছে, কিন্তু বড় বেসিকের কারণে প্রকৃত টাকার অঙ্কে ভাতা বাড়ার সুযোগ থাকছে।

শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা বাড়ছে

এবার আসি কিছু ভালো খবরের দিকে। চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত পাবেন ৪ হাজার টাকা। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনার পাবেন ৫ হাজার টাকা। আর ৭০ বছরের বেশি হলে ৬ হাজার টাকা।

বর্তমানে যেখানে সাধারণ কর্মচারীর চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে নতুন কাঠামোতে তা দ্বিগুণ হচ্ছে। আরেকটি নতুন বিষয়—সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ফোন ভাতা। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত পাওয়া যাবে মাসে ১৫০ টাকা।
তবে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য বর্তমানে যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিল রয়েছে, তা কমে হবে ৫০০ টাকা। এদিকে ছোট ছোট কয়েকটি ভাতায় বড় বৃদ্ধি আসছে।

যাতায়াত ভাতা—৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। টিফিন ভাতা—২০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ধোলাই ভাতা—১০০ থেকে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ কিছু বড় ভাতায় হার কমলেও, বেশ কিছু নির্দিষ্ট ভাতায় সরাসরি টাকার অঙ্ক বাড়ানো হচ্ছে।

উচ্চতর গ্রেড পেতে সময় কমছে

নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে উচ্চতর গ্রেড। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোতে সেই সময় কমিয়ে করা হচ্ছে ৮ বছর।

অর্থাৎ একজন কর্মচারী আগের তুলনায় দুই বছর আগেই উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে আগের মতোই ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকবে।

আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই, অর্থাৎ ব্লকড পদ—সেখানে চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। তাই ক্যারিয়ারের দিক থেকেও নতুন পে স্কেলে কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি হচ্ছে।

সরকারের খরচ কত?

এবার আসি পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংখ্যাটিতে। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নও একদিনে হচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সব ধরনের ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ এটি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়—সরকারের বাজেট, ভবিষ্যৎ ব্যয় এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপরও এর বড় প্রভাব পড়বে।

মূল বেতন বড়ভাবে বাড়ছে। নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকছে, কিন্তু উচ্চ গ্রেডে হার কমছে। বাড়িভাড়ার শতাংশ কমছে, তবে বেসিক বেতন বাড়ায় টাকার অঙ্কে ভাতা বাড়তে পারে। চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতায় বাড়ছে সুবিধা। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও কমছে। তবে একই সঙ্গে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ ১০ শতাংশ প্রণোদনা নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বাতিল হবে।

সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেল শুধু “বেতন বাড়ছে”—এত সরল কোনো গল্প নয়। এখানে কারও সুবিধা বাড়ছে, কোথাও হার কমছে, আবার কোথাও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন একলাফে বাড়ছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তাঁদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠটা দেখেছেন? দেশে সরকারি...
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থার নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী...
সাংবাদিকতায় ১৭ বছরে যে জঞ্জাল তৈরি হয়েছিল তা মুক্ত করাই এই সরকারের এখন মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ।  বুধবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ক্রাইম...
বুড়িগঙ্গা তীরের ৩০টি অবৈধ ডকইয়ার্ডের মধ্যে থেকে ১০টি উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার কেরানিগঞ্জ ও শ্যামপুরে নদীর পাড়ে অবৈধ নৌযান তৈরি ও মেরামত কারখানা উচ্ছেদে অভিযান চালায় বিআইডব্লিউটিএ। ধাপে...
ইরানে ছয় মাসের সামরিক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারে। তাই যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। সামরিক ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটে...
লোডিং...

এলাকার খবর