কেয়ামত এগিয়ে আসছে, এআই বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যৎবাণী!

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

একটা সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানেই ছিল মানুষের কাজ সহজ করার একটি প্রযুক্তি। এখন সেই এআই-ই এমন এক পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে এর ক্ষমতা নিয়ে সতর্ক করছেন খোদ এআই গবেষকরাই। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষকের সতর্কবার্তা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একজন গবেষক করেছেন ভয়ংকর এক ভবিষ্যৎবাণী—আগামী এক দশকের মধ্যেই এআইয়ের হাতে পৃথিবীর সব মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি ১০ শতাংশেরও বেশি বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু কীভাবে একটি প্রযুক্তি মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে? আর এআই কি সত্যিই সেই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে?

ভয়টা আসলে কোথায়?

সবচেয়ে বড় ভয় হলো, ভবিষ্যতে এআই এমন এক জায়গায় চলে যাবে, যেটি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাবান হবে—কিন্তু তার লক্ষ্য মানুষের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলবে না। ধরুন, একটি এআইকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হলো। সে যদি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে মানুষকে বাধা হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মূলত দুটি বড় ঝুঁকির কথা বলেন। প্রথমত, মানুষ নিজেই শক্তিশালী এআইকে খারাপ কাজে ব্যবহার করতে পারে। যেমন, কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এআই ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে, কিংবা জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কাজ আরও সহজ করে ফেলতে পারে।

দ্বিতীয় ঝুঁকিটা আরও গভীর—মানুষ এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। ভবিষ্যতের কোনো অত্যন্ত শক্তিশালী এআই যদি নিজে থেকে পরিকল্পনা করতে পারে, নিজের কাজ লুকাতে পারে এবং মানুষের নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারে, তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না—সেটাই বড় প্রশ্ন।

এআই নিজেই যদি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে

বর্তমান এআই মানুষের তৈরি তথ্য থেকে শেখে এবং মানুষের নির্দেশে কাজ করে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি কোনো এআই নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করে, নিজের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে পারে, তাহলে তার ক্ষমতা খুব দ্রুত বাড়তে পারে। এটাকে বলা হয় রিঅকারসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট। সমস্যা হলো, এই পরিস্থিতি যদি মানুষের বোঝার গতির চেয়ে দ্রুত হয়, তাহলে এআই কী করছে, কেন করছে—সেটাই হয়তো মানুষ পুরোপুরি বুঝতে পারবে না।

অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গার বলেছেন, বর্তমান এআই থেকে ঝুঁকি কম হলেও প্রযুক্তি দ্রুত এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও বলেছেন, বর্তমান মডেলগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতার ওপরে যাচ্ছে এবং আমরা এক ধরনের অজানা জায়গায় প্রবেশ করছি।

তাহলে এআই কি পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে?

তাহলে এআই কি পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর—না, বর্তমান এআই সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আন্তর্জাতিক এআই সেফটি রিপোর্টের ২০২৬ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান এআই ব্যবস্থা এখনো এমন সক্ষমতা অর্জন করেনি, যার মাধ্যমে মানুষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। অর্থাৎ চ্যাটজিপিটি, ক্লড কিংবা গ্রকের মতো বর্তমান এআই নিজের ইচ্ছায় উঠে গিয়ে পৃথিবী দখল করার মতো অবস্থায় নেই।

কিন্তু উদ্বেগের জায়গাটা অন্যত্র। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এআই এজেন্টকে (AI Agent) মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর এমন কিছু ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে এআই এজেন্ট সাইবার হামলা করেছে। এসব ঘটনা এখনো মানবজাতি ধ্বংসের প্রমাণ নয়। বরং এগুলো গবেষকদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত—এআই যত বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করবে, তার ভুল বা অপব্যবহারের ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে। এই কারণেই গবেষকরা এআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং জরুরি অবস্থায় এআই বন্ধ করার ব্যবস্থা তৈরির কথা বলছেন। কিন্তু এখানেই বড় সমস্যা। কারণ বিশ্বের বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই দ্রুত আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় আছে।

এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবে—এমন কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী এখনো নেই। বরং বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই এর সম্ভাবনা নিয়েই মতভেদ রয়েছে। কেউ এই ঝুঁকি খুব বেশি মনে করেন, কেউ আবার বলেন—এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী মূলত অনুমাননির্ভর।

এআই নিরাপত্তা গবেষক রোমান ইয়াম্পোলস্কি প্রায় নিশ্চিত ধ্বংসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইয়ান লেকুন মনে করেন, এই সম্ভাবনা পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও অনেক কম। ইলন মাস্ক প্রায় ২০ শতাংশ, আর অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকির কথা বলেছেন। অর্থাৎ সংখ্যাগুলো এক নয়। কিন্তু প্রায় একই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর নিরাপত্তা নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

কারণ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এআই মানুষকে ধ্বংস করবে কি না, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো—মানুষ এআইকে আরও শক্তিশালী করার আগে সেটিকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পারবে কি না। আর এই প্রতিযোগিতার ফলাফলই হয়তো ঠিক করবে, ভবিষ্যতের এআই মানবজাতির সবচেয়ে বড় সহকারী হবে, নাকি মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

মাউন্ট এভারেস্ট আর হিমালয়ে যে বরফের রাজ্য আছে, সেটাকে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। ভয়ংকর কথা হলো, এই তৃতীয় মেরু এখন প্রচণ্ড তাপে গলছে। গবেষকরা বলছেন, শুধু বরফ গলাই নয়—হিমালয় এখন এমন এক...
মাছ-মাংসের বাজারে তো পা ফেলার উপায় নেই, তাই বলে কি একটু ডিম খেয়ে বেঁচে থাকার উপায়ও থাকবে না? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লাগার পর সাধারণ মানুষ যখন আমিষের উৎস হিসেবে ডিমের ওপর ভরসা করে, ঠিক...
আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন, আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি। কীভাবে হবে নির্বাচন? প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী লাগবে? দলীয় প্রতীক কি...
স্যাটেলাইট ছবি বলছে—একদিকে দিল্লিতে কূটনৈতিক বন্ধুত্ব, আর অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তে চীনের নীরব আগ্রাসন! শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, স্থানীয় আদিবাসীদের হাজার বছরের পুরোনো চারণভূমিও নাকি গ্রাস করে নিচ্ছে...
সোনালি আঁশের স্বপ্ন এখন যেন লালমনিরহাটের কৃষকের দুঃস্বপ্ন। খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাইয়ে কমেছে পাটের ফলন। সেইসাথে বাজারে পাটের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। তবে ঝিনাইদহে...
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য...
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে...
সুন্দরবনে দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে খুলনায় ডাম্পিং করছে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ সুন্দরবন–টোয়াস। এছাড়াও পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে যাওয়া প্রতিটি জাহাজে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার...
লোডিং...

এলাকার খবর