সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় মিরপুরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গাজীপুরেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এদিকে বিক্ষোভের কারণে কয়েকশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধে একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মিরপুর এলাকা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় শ্রমিকদের অনেকে পুলিশের চোখ এড়াতে বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতির কারণে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশনের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানান।
পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে সরকারবিরোধীরা পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বল প্রয়োগ করতে হয়েছে।
বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে রোববার তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকেরা সড়কে নামলে মিরপুর এলাকার পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে রোববার সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও চন্দ্রাসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভে নামেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন শ্রমিকেরা।
গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কারখানা এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।’
একই দাবিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায়ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। প্রথমে তিনটি কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা।
শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার সোয়েব আহমেদ বলেন, ‘বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে সাভার ও আশুলিয়ার অন্তত ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
বিক্ষোভের কারণে মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


