ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা শরিফুল রাজকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। ‘ঠিকানা’ সিনেমার প্রযোজকের পাঠানো আইনি নোটিশের পর এবার মুখ খুলেছেন অভিনেতা। চুক্তি ভঙ্গ ও শুটিংয়ের শিডিউল না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজের ভাষ্য, প্রযোজকপক্ষ আসলে কী চায়, সেটিই তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘একবার বলে টাকার কথা, আমি নাকি টাকা দিচ্ছি না। আবার বলে শিডিউলের কথা। তারা আসলে কী চায়? টাকা চাইলে নিয়ে যাক। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দিব। আমি তো সিনেমা করতে এসেছি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেইনি এমন কেউ বলতে পারবে না।’
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জুবায়ের ইবনে বকর পরিচালিত ‘ঠিকানা’ সিনেমা। ছবিটির প্রযোজক শাহরিন আক্তারের অভিযোগ, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও তিন মাস ধরে শুটিংয়ের সময়সূচি দিচ্ছেন না রাজ। শুধু তা-ই নয়, চুক্তির এক্সক্লুসিভিটি শর্ত লঙ্ঘন করে অন্য সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা।
প্রযোজকের দাবি, ২০২৭ সালের ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা মাথায় রেখেই রাজকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী একই ঈদে অন্য সিনেমায় কাজ করার সুযোগ ছিল না তাঁর। অথচ প্রথমে তানিম নূরের একটি সিনেমায় এবং পরে আরও একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন রাজ।
শাহরিন আক্তার বলেন, ‘এক ঈদে যদি একজন নায়কের তিনটি সিনেমা মুক্তি পায়, তাহলে আমার সিনেমা তো ক্ষতির মুখে পড়বে।’
প্রযোজকের ভাষ্য, ‘ঠিকানা’র গল্প সাজানো হয়েছে রাজকে কেন্দ্র করেই। তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো নায়কের কথা ভাবেননি নির্মাতারা। ইতিমধ্যে সিনেমাটির পেছনে ৪০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু শুটিং শুরুর জন্য বারবার সময় চেয়েও রাজের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন না তাঁরা। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় সিনেমাটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার অভিযোগও তুলেছেন প্রযোজক।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাজ। তাঁর দাবি, একই ঈদে অন্য সিনেমায় অভিনয় করা যাবে না, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে নেই। এমনকি ‘ঠিকানা’ ঠিক কবে মুক্তি পাবে, সেটিও চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
অভিনেতা বলেন, ‘তাদের ইচ্ছা ঈদে মুক্তি দেবে কিন্তু অন্য কোনো সিনেমা করা যাবে না—এটা তো চুক্তিতে নাই। আবার তাদের সিনেমা ঈদে আসবে—এটাও তো নয়, সেটা নোটিশে ঈদের পরে মুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।’
চুক্তির ৪.১১ ধারা এবং আইনি নোটিশের দ্বিতীয় ধারায় মুক্তির সময়সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ। তাঁর মতে, চুক্তির শর্ত ও নোটিশে উল্লিখিত তথ্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে।
পেশাগত বিরোধ আইনি পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিস্ময় প্রকাশ করে রাজ বলেন, ‘এখন আমিও আইনিভাবে কথা বলব। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছু বলতে পারি। আমার কাজ শিডিউল দেওয়া, শুটিং করা। এখন বছরে তো আমি একটা ছবি করছি না।’
তবে বিরোধের মধ্যেও প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি সম্মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে।
এদিকে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ‘ঠিকানা’র শুটিং ও মুক্তির পরিকল্পনা। চুক্তির শর্ত নিয়ে কার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে, তা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। রাজের আইনি জবাব এবং প্রযোজকপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হতে পারে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ।


