পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ঝোলাগাতী গ্রামে বুধবার সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোকেয়া বেগম নামে এক গৃহবধূকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়মৃত্যু হয়েছে তার।
নিহত গৃহবধূ নাম রোকেয়া বেগম (৫০)। তিনি কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ঝোলাগাতী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুর রব আকনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৮টার দিকে নিজ জমিতে চাষাবাদের বিষয়ে প্রতিবেশী কৃষক পিরুর স্বামীর সঙ্গে কথা বলছিলেন রোকেয়া বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর ওরফে জাকির আকন পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত এবং নির্মমভাবে মারধর করেন। ঘটনাস্থলেই রোকেয়া বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। তার মেয়ে আফিয়ার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত রোকেয়া বেগমকে তার মেয়ে আফিয়া ও ছেলে আবু সালেহ স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলে। প্রায়ই রোকেয়া বেগম ও তার পরিবারের ওপরে এমন নির্যাতন করা হতো। জমি–জমা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এটা অনেকটা পরিকল্পিত হতে পারে।
আফিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আকন ও জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সুরমা বেগম, সোবাহানের স্ত্রী রাহেলা, আলমগীরের স্ত্রী শাহনাজ আমার মাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আকনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল রা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ও সার্কেল এসপি স্যার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’



