প্রচণ্ড তাপদাহে প্রাণীকুলের প্রাণ যখন উষ্ঠাগত, ঠিক তখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আরও তিনটি নতুন বাঘ শাবকের জন্ম দিয়েছে রাজ-পরী দম্পতি। গত ৯ এপ্রিল জন্ম নেয় এসব শাবক। এরমধ্যে একটির জন্ম হয় মৃত অবস্থায়। বাকি দুইটিকে রাখা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণে।
আর এ নিয়ে এই চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯টি। এদিকে বাঘ শাবকের জন্মের খবরে অনেকেই ছুটে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। তবে, এখনই দর্শকের জন্য উন্মুক্ত করছেনা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার রাজ–পরীর ঘরে জন্ম নেয় তিনটি বাঘ শাবক। এরমধ্যে মাতৃগর্ভেই মারা যায় একটি। বাকি দুই শাবকের দুইটিই বাঘিনী। জন্মের পর এসব শাবককে রাখা হয়েছে বিশেষ খাঁচায়। ঢেকে রাখা হয়েছে সবুজ রঙের পর্দা দিয়ে। যেহেতু প্রচণ্ড গরম এবং মায়ের মন–মেজাজ কিছুটা রুক্ষ সেকারণে এখনো এসব শাবককের ছাড়া হয়নি বড়দের খাঁচায়। পর্দার ফাঁক দিয়েই শাবকদের একনজর দেখতে দর্শনার্থীদের চেষ্টার শেষ নেই’।
চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা: মো. সরওয়ার উদ্দিন জানান, জন্মের পর থেকে প্রতিদিন মায়ের দুধ পান করছে তারা। এখন পর্যন্ত মা তার স্বাভাবিক আচরণ অব্যাহত রেখেছে। মাকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি খাবার। সিসিসি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বাঘ শাবকের জন্মের খবর পেয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন একনজর তাদের দেখতে। কিন্তু এখনও দর্শকদের সামনে আনার উপযোগী না হওয়ায় খবর শুনেই তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ টি। যারমধ্যে ১৩টি মেয়ে, ৬টি পুরুষ এবং পাঁচটি বিরল সাদাকালো বাঘ রয়েছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে জলহস্তি পরিবারে নতুন সদস্য আসছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।



