লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলাসহ সারা দেশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না হলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে তাঁর পদে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মোহাম্মদ রাকিব।
গতকাল শনিবার নিজের ফেইসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে সরাসরি এমন হুমকি দিয়েছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও বর্তমান এনসিপির এই নেতা।
ফেসবুক পোস্টে রাকিব লেখেন, ‘পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা যদি এবার রামগতিসহ সারাদেশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করে নতুন করে মাল পানি কামায়, তাহলে তাকে আর চেয়ারে রাখবো না। সে সরকার হয়ে রাজনীতি করছেন।’
জানা গেছে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রামগতির ৫০টি অবৈধ ইটভাটাসহ সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন রাকিব। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রামগতি উপজেলায় ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক, ৩০টি মাধ্যমিক, ৬টি কলেজ, ১৪টি মাদরাসা, ৫০টি কিন্ডারগার্টেন ও ৫০টিরও বেশি কওমী ও নূরণী মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে আসছে। রামগতিতে মোট অবৈধ ৫০টি ইটভাটা রয়েছে। তারমধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটা রয়েছে বৈধ, বাকি ৪৮টি অবৈধ ইটভাটা। আবার এসব অবৈধ ব্রিকফিল্ডে বেআইনিভাবে করাতকল বসিয়ে পোড়ানো হচ্ছে গাছের গুড়ি। এতে সবুজ পরিবেশ, জীববৈচিত্র, সড়ক অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনমান হুমকির মুখে পড়েছে। চরম স্বাস্থ্যঝুকিতে রয়েছে এ অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ বিষয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মোহাম্মদ রাকিব ফোনকলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি পরিবেশ উপদেষ্টার সাথে দেখা করে সরাসরি কয়েকবার কথা বলেছি। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ইটভাটা বন্ধে স্মারকলিপি দিয়েছি। তারপর অনেকবার উপদেষ্টার সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উনি ইটভাটা নিয়ে রাজনীতি করছে এবং সন্দেহ করছি, তিনি এখাত থেকে টাকা পয়সা কামানোর চেস্টা করছেন।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘এবার যদি অবৈধ ইটভাটা চলে তাহলে পরিবেশ উপদেষ্টাকে এ পদে থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
অবৈধ ইট-ভাটার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আমরা সমন্বয় সভা করেছি। রামগতিতে চলতি মৌসুমে কোন অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না।’
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ পাঠান বলেন, ‘গতবারও অনেক ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ কোনো ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে ভাটা মালিকদের সাথে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।



