ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার একদিন পর ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস প্রতীকের রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিয়েছে দলটি। সোমবার রাত ১০টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বাসায় এজন্য এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী জানান দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্দেশে স্বতস্ফুর্তভাবে এ সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
আবদুল হামিদ ভাসানী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা মিথ্যা মামলা এবং হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ৫ আগস্টের পর মব এবং জাতীয় পার্টির অফিসে বারবার অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর প্রথম প্রতিবাদ করেছেন রুমিন ফারহানা। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলে তিনি বলেছেন, রাজনীতি করা এ দেশের মানুষের অধিকার। কারও অধিকার হরণ করা যাবে না।’
রুমিন ফারহানাকে প্রতিবাদী কণ্ঠ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ ভাসানী আরও বলেন, ‘আশুগঞ্জ, সরাইল ও বিজয়নগরের সকল মানুষকে নিরাপদ, জুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন এবং উন্নয়ন কাজ করতে পারবেন এই বিশ্বাস থেকে আমরা তাকে স্বতস্ফুর্তভাবে সমর্থন জানাচ্ছি।’
এসময় উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।
রুমিন ফারহানা সংবাদ সম্মেলনে তার নেতাকর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন। হাঁস প্রতীকের প্রার্থী বলেন, ‘‘রাতে ফোন করা হচ্ছে, অনেককে বাসায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে ‘হাঁসের’ সঙ্গে কাজ করো! ১২ তারিখের পর দেখব, এলাকায় থাকবা না- তখন দেখব। এটা এক ধরনের ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে কালো টকা। আমার কাছে তথ্য এসেছে বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থী কয়েক কোটি টাকার বাজেট নিয়ে নেমেছেন। আগামী দুদিন এগুলো বিলি-বিতরণ করা হবে। আশা করব প্রশাসন এগুলো খেয়াল রাখবে।’
জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সেটা এতো আগে বলতে পারব না। আগে আমাকে নির্বাচন করতে হবে, জয়যুক্ত করতে হবে। তারপরে এই সিদ্ধান্ত। আপাতত আমাদের সকলের সামনে একটা বিরাট জাতীয় নির্বাচন ১২ তারিখে হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে যাতে কোনোভাবেই পেশীশক্তি, কালো টাকা, ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী ভোটারের ভোট থেকে যেন বঞ্চিত না হয়; ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, ফলাফল যেন ঠিকভাবে ঘোষণা করা হয়- সেটাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জিয়াউল হক মৃধা উপস্থিত ছিলেন না। তিনি স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারার অভিযোগ এনে রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।



