অনিশ্চিয়তা কাটিয়ে ক্লাসে ফিরেছে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। খাগড়াছড়ির রামগড়ে শনিবার রাতের আগুনে পুড়ে যাওয়া কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সবকটি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে।
পুড়ে যাওয়ার পরপরই খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বিদ্যালয়টি চালুর উদ্যোগ নেন।
এদিকে, অস্থায়ী বিদ্যালয় ভবনে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাদের বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, হোয়াইটবোর্ড, ঘন্টাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় এক বাসিন্দা তার পরিত্যক্ত পোল্ট্রি শেড শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেন।’
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার অস্থায়ী ওই শেডে পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় বাসিন্দা খলিল মেম্বার বলেন, ‘এত দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুল চালু হবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় এটি সম্ভব হয়েছে।’
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, ‘আজ আমি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থায়ী স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো.আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘আগুনে পুরো স্কুল ভবনটি পুড়ে যাওয়ার পর অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চালু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
২০২২ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত।



