ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় খালাসের আদেশপ্রাপ্ত রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলর সাড়ে সাত বছর পর চট্রগ্রাম ও ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার তারা মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে যান।
মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চর গণেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর এবং পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। রুহুল আমিন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন গভর্নিং বডির সহসভাপতি। তিনি চরচান্দিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলী বাড়ির মৃত কোরবান আলীর ছেলে।
জানা যায়, আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় রুহুল আমিন, মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ কাউন্সিলর, আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন এবং মৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মনি খালাসের আদেশ ফেনী জেলা কারাগারে গত রোববাররাত ৮টায় পৌঁছায়।
মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ কাউন্সিলর ফেনী জেলা কারাগার থেকে ও রুহুল আমিন চট্রগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্ত বাকী আটজন আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন। মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মনি গাজীপুর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।
সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরারাতের ভাই মাহমুদুল হাসান ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনীর পাঠানো মুক্তির আদেশের কপি রোববার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। সেই আদেশের আলোকে ১৪ সেপ্টেম্বর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।



