ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের শহরতলীর কানাইপুরের দিগনগর এলাকায় বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত পিকআপ যাত্রীরা ত্রাণের টিন নেওয়ার জন্য আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা থেকে ফরিদপুর সদরে আসছিল।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা দিকনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাগুরাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নারীসহ ১১ জন নিহত হয়। পরে মৃত্যু হয় আরও তিনজনের। নিহতদের মধ্যে সাতজন নারী, দুই শিশু ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উদ্ধারকারী দল পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে।
স্ত্রী ও সন্তানদেরসহ নিহত রাকিবুল ইসলাম মিলনের চেষ্টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের টিন এসেছে ফরিদপুর কার্যালয়ে। সচিবালয়ের লিফটম্যান রফিকুল তদবির করে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর জন্য এই টিনের ব্যবস্থা করেছিলেন। টিনগুলো বুঝিয়ে দিতে এলাকাবাসীর সঙ্গে পিকআপে আসছিলেন তিনি। পরে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তাঁর।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন– সচিবালয়ের লিফটম্যান বোয়ালমারী শেখর ইউনিয়নের ছত্রকান্দা গ্রাম রাকিবুল ইসলাম মিলন ( ৪২) ও তাঁর স্ত্রী সামিমা ইসলাম সুমি (২৫), তাঁদের বড় ছেলে আলভী রোহান (৭), ছোট ছেলে আলফাডাঙ্গা মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী আবু সিনান (৪), প্রতিবেশী মৃত আব্দুল ওহাবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৭০), পিকআপচালক আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের নজরুল মোল্ল্যা (৩৫), আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামের জানাহারা বেগম (৫০), তাঁর ভাতিজি প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া বেগম (৩০), সোনিয়ার ১১ মাস বয়সী শিশু সন্তান নুরানী, সদর ইউনিয়নের চরবাকাইল গ্রামের তবি খান (৫৫), হিদাডাঙ্গা গ্রামের হিদাডাঙ্গা গ্রামের শুকুরন বেগম (৯০), তাঁর মেয়ে মনিরা বেগম সূর্য (৫৫), প্রতিবেশী কহিনুর বেগম (৬০)। এছাড়াও ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় মো. ইব্রাহীমের (৩২)।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন– রাকিবুল ইসলাম মিলন, তাঁর স্ত্রী সুমি, দুই ছেলে আবু রায়হান ও আবু সিনান রুহান।
এছাড়া নিহত রাকিবুলের মা খুরিয়া বেগম (৭০) দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত রাকিবুলের ফুফাতো ভাই মকিবুল ইসলাম জানান, ত্রাণের টিন নিতে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী থেকে তাঁরা পিকআপে করে ফরিদপুর সদরে আসছিল।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘পিকআপটি নির্দিষ্ট লেন ছেড়ে বিপরীত লেনে চলে আসার কারণে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’
জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘নিহতদের দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া নিহত প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে।’



